৮ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  রাত ৯:২৫  ১৮ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪৩ হিজরী
২২শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

সিনহা হত্যা : স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছেন লিয়াকত

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছেন প্রধান আসামি বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী। তৃতীয় দফায় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুরের একদিন পরই স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তাকে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে আনা হয়েছে।

মামলার তদন্ত সংস্থা র্যাবের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দুপুর ২টা থেকে তার জবানবন্দি গ্রহণ শুরু হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

র্যাব সূত্র জানায়, সিনহা হত্যা মামলায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এএসআই নন্দদুলাল রক্ষিতকে গত শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে তৃতীয় দফায় তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তৃতীয় দফায় তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুরের একদিন পরই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে বরখাস্ত হওয়া পরিদর্শক ও সিনহা হত্যার প্রধান অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে আনা হয়।

এর আগে আত্মসমর্পণের পর গত ৬ আগস্ট ওসি প্রদীপ, লিয়াকত ও নন্দদুলালসহ সাত পুলিশের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর সাতদিনের রিমান্ড শেষে দ্বিতীয় দফায় ২৪ আগস্ট আরও সাতদিনের রিমান্ড চেয়েছিল র্যাব। আদালত চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। ওই চারদিনের রিমান্ড শেষ হলে তদন্তের স্বার্থে তৃতীয় দফায় আরও চারদিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে গত ২৮ আগস্ট আদালত তাদের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা করে।

গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহা মো. রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এতে নয়জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় এখন পর্যন্ত সাত পুলিশ সদস্য, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্য ও টেকনাফ থানা পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।

একই মামলায় ইতোমধ্যে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেফতার এপিবিএনের তিন সদস্য।