৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  সকাল ৯:৩২  ২রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
২০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

সৃষ্টিকর্তা ছাড় দেন, ছেড়ে দেন না !



রিফাত কান্তি সেন


মহান সৃষ্টিকর্তা ছাড় দেন ঠিকই, কিন্তু ছেড়ে দেন না। আমরা লোভী মানুষের কারণেই আজ পৃথিবীর এ অবস্থা। আমরা কঠিন বেইমান। আমরা এতটাই বেইমান যে গর্ভধারণীকে মা কে ও দূরে ঠেলে দিতে কার্পণ্যবোধ করি না। এটা তো মিথ্যে কিছু না। আপনি যদি গত কয়েক বছরের দৈনিক পত্রিকাগুলো ঘাটেন ঠিকই আপনি খবর পাবেন,বৃদ্ধ মা,বাবাকে ঘর থেকে বেড় করে দিয়েছেন সন্তান।


এই করোনাকালে এসেও এমন ঘটনা দেখতে হয়েছে। করোনা সন্দেহে মা কে নির্জন বাগানে ফেলে এসেছে সন্তানেরা। কতটা নিষ্ঠুর আমরা। একবারও ভাবি না যে মায়ের কারণে আজ আমরা পৃথিবীতে অমুক-তমুক খেতাব নিয়ে ঘুরছি,তাকেই আমরা সম্মান দিতে জানি নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিষয়টি জেনে চমকে উঠেছিলেন।


সেদিন দেখলাম, একজন পিতা রিক্সা চালাচ্ছেন। বয়স ৭০ এর কোটায়। বললাম, চাচা- ছেলে সন্তান নেই? বললো, ‘আছে- তবে খবর নেয় না!’ আমি বেশ আঁতকে উঠলাম। এ ও কী সম্ভব। শতকষ্টে থাকলেও তো যাদের কারণে এ পৃথিবীর আলো দেখেছো তাঁদের খবর নেয়া উচিত। কোন বইয়ে যেন পড়েছিলাম, পুত্র কুপুত্র হলেও, পিতামাতা কুপিতা-মাতা হন না। ঠিক তাই। একজন মা রমজান উপলক্ষে কিছু চাল পেয়েছেন ত্রাণ হিসাবে। সেই চাল মা নিজে না নিয়ে পুত্রের ঘরে দিয়ে এসেছেন। নিজে কিছুটা রেখে, বাকীটা সন্তানকে দিয়ে এসেছেন। ছেলের ঘরে চাল নেই মনে হয়েছে মায়ের। আহারে জীবন, এটাই মাতৃত্ব। মা কখনো পর হয় না, যদিও স্ত্রী এসে পর করে দিতে চান। সবাই অবশ্য এক না, মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ তো আছে। কারণ অনেকে চিন্তা করেন এই স্ত্রী ও তো একদিন মা হবেন।


সেদিন একটি পত্রিকায় দেখলাম, করোনা আক্রান্ত ছেলেকে নিজেই কোলে নিয়ে হাসপাতালে সামনে দাড়িয়ে আছে পিতা। আবার অন্য একটি সংবাদ দেখে চোখ কপালে ওঠে গেল। সারা বছরের সঞ্চয়, হাড় ভাঙা খাটুনি করে যে মানুষটা পরিবার, স্ত্রী- সন্তানের চাহিদা মিটিয়েছে। সেই লোকটাকেই স্ত্রী-সন্তান করোনার অযুহাতে ঘরে রেখে দূরে চলে গেছে। বেশ ক’দিন ঢাকায় থাকার পর যখন নিজ গ্রামে ফিরে গেলেন, সেখানেও নির্যাতনের শিকার হলেন। অতপর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আসে।


চাল চুরি আর ডাল-তৈল চুরির ঘটনা তো আপনারা গণমাধ্যমে দেখেনই। এই ক্রান্তিকালেও দেশের গরীব মানুষগুলোকে দেয়া দ্রব্যসামগ্রী চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে একদল অসাধু মুনাফাখোর মানুষেরা।


মাঝে মাঝে মনে হয় ভোপেন হাজেরিকা ঠিকই গেয়েছিলেন, মানুষ যদি সে না হয় মানুষ/দানব কখনো হয় কী মানুষ?/যদি দানব কখনোবা হয় মানুষ, লজ্জা কী তুমি পাবে না ও বন্ধু!


মানুষ মানুষের জন্য। দানব মানুষ হলেও, মানুষ মানুষ হতে পারেনি। এ যে ক্রান্তিলগ্ন সেখানেও একদল মজুত করতে ব্যস্ত। নিজের কথা চিন্তা করে পণ্যের দাম বাড়ানোই তাঁদের ধান্দা। তবে কী তারা ভুলে যাচ্ছে সৃষ্টিকর্তার হুশিয়ারি।


আমাদের সবার বুঝা উচিত, সৃষ্টিকর্তা ছাড় দেন,কিন্তু ছেড়ে দেন না।