১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  দুপুর ১:১১  ৮ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
২৬শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

ফরিদগঞ্জে বহুল প্রতিক্ষিত ধানুয়া-গাজীপুর সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত

আব্দুস সালাম :

ফরিদগঞ্জের উত্তর-পূর্বাঞ্চলবাসির বহুল প্রতিক্ষিত ডাকাতিয়া নদীর উপর নির্মিত ‘ধানুয়া-গাজীপুর সেতু’র শতভাগ নির্মান কাজ সম্পন্ন হওয়ায় সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

বহুল প্রত্যাশিত এ সেতুটি নির্মানের মধ্যে দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটতে যাচ্ছে। বিশেষ করে সেতুটি নির্মানের ফলে চাঁদপুর, ফরক্কাবাদ, ধানুয়া এবং গাজীপুর হয়ে গল্লাক যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

এছাড়া, নবনির্মিতি সেতুটির কারণে সড়কে যাতায়াত ব্যবস্থায় দুরুত্ব কমে আসায় ওই অঞ্চলের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য সহ কৃষি অর্থনীতির ব্যপক উন্নয়ন হবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে, সেতুটির মাধ্যমে ফরিদগঞ্জ উপজেলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যবসায়ীক কাঠামো আরও সু-সংগঠিত হবে বলে মনে করেন গাজীপুর বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সহ-সভাপতি সুমন।

এছাড়া, ধানুয়া-গাজীপুর সেতু ডাকাতিয়া নদীর দু’পাড়ের মানুষের যোগাযোগ ও সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন ৯নং গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল চৌধুরী।

জানা যায়, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে ৯৯ মিটার পিসি গার্ডার সেতুটি নির্মানে ব্যয় হয় ৬ কোটি ০৯ লাখ ৭৮ হাজার ২শ’ ৫৫ টাকা। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে সেতুটি নির্মান করতে সময় লেগেছে প্রায় দুই বছর।

সেতুর মূল কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেতুটির নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান মের্সাস এমএএইচ কনষ্টাকশন লিমিটেডের স্বত্বাধিকারি আনোয়ার হোসেন খোকন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, সেতুর দু’পাশের সংযোগ সড়কের কার্পেটিং ও রঙের কাজ সহ সকল কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। সেতু নির্মানে বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে পড়তে হলেও নিজ এলাকার কাজ হওয়ায় আন্তরিকতার সাথেই কাজটি করেছেন বলে জানান অনোয়ার হোসেন খোকন পাটওয়ারী।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী জিয়াউল ইসলাম মজুমদার এ প্রতিনিধিকে জানান, ব্রিজের মূল কাজ (স্ট্রাকচার) শেষ। অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজও শতভাগ শেষ হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এলাকাবাসী সেতুটির সুবিধা ভোগ করতে পারবেন বলে আশাব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে, নবনির্মিত সেতুর সংযোগ সড়কের দু’পাশে সৃষ্টি হয়েছে মনোরম এক পরিবেশ। মাছ চাষের চরের মাঝখান দিয়ে যাওয়া সেতুর সংযোগসড়ক কংকিটের ব্লক দিয়ে বাধ দেয়ায় সেতুর আশেপাশের পরিবেশ বেশ নান্দনিক দেখাচ্ছে।

করোনাভাইরাসের প্রকোপ শেষ হলে সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।