৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  সকাল ১১:১৯  ৩রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

ফরিদগঞ্জে চালের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ

শিমুল হাছান :

চাঁদপুরের ফরিগঞ্জে করোনা সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিশেষ খাদ্য কর্মসূচির কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যবসায়ী সহ ১২ জন আহত হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে এ সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এসময় আওয়ামী লীগের স্থানীয় কার্যালয়সহ কয়েকটি দোকান ভাংচুর হয়।
গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল মান্নান ডেইলি ফরিদগঞ্জকে জানান, করোনা সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিশেষ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নে ৭৪৬টি কার্ড বরাদ্দ করা হয়। গত মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত সভায় বরাদ্দকৃত কার্ডের ৪০ ভাগ ইউনিয়ন পরিষদের জন্য রেখে বাকি ৬০ ভাগের মধ্যে এমপির প্রতিনিধির জন্য ৩০ ভাগ, উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিনিধির জন্য ২০ ভাগ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের জন্য ১০ ভাগ কার্ড বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১০ ভাগ কার্ড নিয়ে ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বাবুল ও টেলু পাটওয়ারীর মধ্যে হাতাহাতি হয়।

স্থানীয়রা জানায়, এদের মধ্যে টেলু পাটওয়ারী সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান গ্রুপের ও আলমগীর হোসেন বাবুল উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান গ্রুপের অনুসারি।

হাতাহাতির ঘটনার জের ধরে বুধবার দুপুরে দুই গ্রুপ প্রস্তুতি নিয়ে গোয়ালভাওর বাজারস্থ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। উভয় গ্রুপের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংর্ঘষের ঘটনায় গোয়ালভাওর বাজার রনক্ষেত্রে পরিনত হয়। এতে উভয় পক্ষের রাসেল, মজিব, তারেক , রুবেল, সোহাগ সহ অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়।

এদিকে, হামলার সময় হঠাৎ করেই বাজারের নাহিদ ডির্পাটমেন্টাল স্টোরসহ কয়েকটি দোকান ভাংচুর ঘটনা ঘটে। নাহিদ ডির্পাটমেন্টাল স্টোরের সোহেল এ প্রতিনিধিকে জানান, বাজারের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে হঠাৎ করেই একটি পক্ষ তাদের দোকানে হামলা ও ভাংচুর করে। এসময় তার ভাই জুয়েল ও পাশ্ববর্তী মিজানকে বেদম মারধর করে হামলাকারীরা। একই সাথে তারা নাছির নামে আরেক ব্যবসায়ীর দোকানও ভাংচুর করে।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বাবুল এ প্রতিনিধিকে বলেন, বুধবার দুপুরে তাকে এমপি গ্রুপের লোকজন বেদম মারধর করে। এছাড়া তিনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তার বাড়ি ঘরে হামলার অভিযোগ করেন।

অপরদিকে ইউপি সদস্য টেলু পাটওয়ারী জানান, মঙ্গলবার তার উপর হামলার ঘটনায় বুধবার দুপুরে বিচার হওয়ার কথা ছিলো। এ নিয়ে উভয় পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থান নেয় । এর পর মারামারি শুরু হয়।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান জানান, আমি শুনেছি কার্ড নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষ হয়েছে।

ফরিদগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রকিব ডেইলি ফরিদগঞ্জকে জানান, সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে আমি থানা পুলিশের ফোর্স পাঠিয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি বলে জানান ওসি।