১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  রাত ১২:১৭  ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

মহামারী করোনার মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে দেরিতে দিলেও জরিমানা নেই

যথাসময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতায় দণ্ড মওকুফের পর এবার দুর্যোগ, মহামারি ও জরুরি অবস্থায় সময় বাড়িয়ে সুদ ও জরিমানা ছাড়া মাসিক ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার গণভবনে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) আইন, ২০২০’ এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বাংলাদেশ টেলিভিশনের ক্যামেরার মাধ্যমে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওই ব্রিফিংয়ে অডিও রেকর্ড সাংবাদিকদের সরবরাহ করে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। সরকারের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম গতিশীল রাখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক এ দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে করদাতাদের মাসিক ভ্যাট দাখিলপত্র দাখিলের সুবিধার্থে গত ১২-১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে সকল ভ্যাট সার্কেল অফিস সীমিত পরিসরে খোলা রেখেছিল।

“এরপরেও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে দেশের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যথাসময়ে রিটার্ন দাখিল করতে পারেনি।”

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এফবিসিসিআইসহ আরও কিছু সংগঠন কর্তৃক জরিমানা ছাড়া মূল্য সংযোজন কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। সামগ্রিক বিবেচনায় জনস্বার্থে এ দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে মূল্য সংযোজন কর রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত সময়সীমা বর্ধিত করা প্রয়োজন।

“রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ এবং পদ্ধতিগত জটিলতা নিরসনকল্পে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সময়ে সময়ে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-তে সময় বৃদ্ধির কোনো সুযোগ না থাকায় এপ্রিল থেকে কার্যকারিতা দিয়ে মূল্য সংযোজন কর সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ধারা ৬৪ এর উপ-ধারা (২) এর উপ-ধারা সংযোজন করা হয়েছে।”

সেখানে বলা হয়েছে, “(৩) উপ-ধারা (১) এ যা কিছুই থাকুক না কেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী ও জরুরি অবস্থার কারণে জনস্বার্থে বোর্ড সুদ ও জরিমানা পরিশোধ ব্যতীত দাখিলপত্র পেলে সময়সীমা বর্ধিত করতে পারবে।”

বর্তমানে সংসদ চালু না থাকায় আইন মন্ত্রণালয় এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে অধ্যাদেশ আকারে জারি করবে। সংসদ বসার প্রথম দিনই এটি সেখানে উপস্থাপিত হবে।