১৩ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  ভোর ৫:৫৯  ১২ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী
২৭শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

ফরিদগঞ্জ বাজার ও মার্কেটে চলছে চোর-পুলিশ খেলা

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন গত ১০ মে থেকে জেলার সব শপিংমল দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সে মোতাবেক ফরিদগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একমত পোষণ করে দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তা উপেক্ষা করে দোকান খোলা রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ফরিদগঞ্জ ও গৃদকালিন্দিয়া, চান্দ্রা, রুপসা, গাজীপুর, নয়ারহাট, কালির বাজারের শপিংমলগুলোতে ছিলো ক্রেতাদের উপছেপড়া ভিড়। প্রতিটি কসমেটিক্স, কাপড়ের দোকানসহ অধিকাংশ বিপণি বিতানের সামনে দাঁড়াতেই দোকানের ভিতর থেকে আওয়াজ আসছে ‘আইয়ে রে আইয়ে রে’ পুলিশ, সেনাবাহিনী। আর সঙ্গে সঙ্গেই সব দোকানের শাটার নামতে শুরু করে। মুহূর্তেই সব দোকান বন্ধ করে দোকানের বিতরে চুপি সারে বসে থাকে ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

পুলিশ আসছে এমন খবরে সবাই পালায়। আসলে পুলিশ আসেনি। যখন বুঝল এটি মিথ্যা, তখনি আবার দোকানদাররা দোকানের শাটারের এক সাইড টেনে ক্রেতা ডাকতে শুরু করে। এমন লুকোচুরি ফরিদগঞ্জের আসপাশের বাজারের নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দোকানীরা কখনও শাটার খুলে কখনও শাটার নামিয়ে লুকোচুরি করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আর প্রতিদিন ভিড় করছে শত শত ক্রেতা। যেখানে নেই কোনো সামাজিক দূরত্বের বালাই। তাছাড়া বেশির ভাগ মানুষের মুখে নেই মাস্ক। শিশুরাও ভিড় করছে। যা অত্যন্ত ভয়ানক।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির আহবায়ক অহিদুর রহমান পাটোয়ারী এ প্রতিনিধিকে জানান, আমরা প্রসাশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মার্কেট বন্ধের জন্য মাইকিং করেছি। প্রশাসন এ বিষয়ে নজর রাখছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আমারকে তোয়াক্কা না করে প্রশাসনকে বৃদ্ধা আংগুলি দেখিয়ে দোকানপাট খোলা রাখছে।

অন্যদিকে গৃদকালিন্দিয় বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানান, বাজারে ম্যাজিষ্ট্রেট এসে দোকানদারদেরকে দোকান বন্ধ রাখার জন্য বলে গেলেও ম্যাজিষ্ট্রেট চলে যাওয়ার পর আবার সকল দোকানে দেদারছেই চলছে বেছাকেনা। ম্যাজিষ্ট্রেট যদি প্রতিটি দোকানি ও ক্রেতাকে জেল জরিমানা করতেন তাহলে দোকানি ও ক্রেতা ভয় পেত বলে আমি মনে করি।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রকিব এ প্রতিনিধিকে বলেন, পুলিশ প্রতিটি বাজারে গিয়ে দোকানপাট বন্ধ রাখার জন্য বলে আসলেও দোকানিরা তা মানছেনা। এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী কমিটি ও সচেতন জনগন জোরালো উদ্দ্যোগ নিলে হয়তো দোকানপাট বন্ধ রাখা সম্ভব হবে।

নিজস্ব প্রতিনিধি: