১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  সকাল ১১:২২  ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
২৯শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চাঁদপুরে প্রশাসনের ১৩ সিদ্ধান্ত

দিন যত যাচ্ছে চাঁদপুর জেলায় করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪শতাধিক আক্রান্ত হয়েছে পুরো জেলায়। যার ফলে প্রশাসন করোনাভাইরাস প্রতিরোধকল্পে নতুন করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন।

চাঁদপুর জেলা করোনা বিষয়ক প্রতিরোধ কমিটির মুলতবি সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। বরাবরের ন্যায় জুম অ্যাপস্-এর মাধ্যমে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এবং চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডঃ নূরুল আমিন রুহুল অংশ নেন। জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খানের সভাপ্রধানে অনুষ্ঠিত সভায় চাঁদপুর জেলায় বর্তমানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাসহ জেলার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসব সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ। সিভিল সার্জনের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের পরই সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে:

১) করোনা আক্রান্ত রোগীর বাড়ি বহুতল ভবন হলে ঐ ভবন পুরোটা লকডাউন করা হবে, আর সিঙ্গেল ঘর হলে তা ও চারদিকের ৪ টি ঘরসহ লকডাউন করা হবে।
২) করোনা আক্রান্ত রোগীরা যাতে কোনভাবেই আইসোলেশন থেকে বের না হয় এজন্য কঠোর মনিটরিং করা হবে। এজন্য গঠিত কমিটি কাজ করবে। কমিটির সাথে আরো বেশি করে স্বেচ্ছাসেবকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৩) কেউ আইসোলেশন ভেঙে বাহির হলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনানুগ শাস্তি দেওয়া হবে।
৪) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ নিয়মিত ফোন করে তাদের স্বাস্থ্য, চিকিৎসা,খাদ্য ও কোন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা আছে কিনা খোঁজ নিবে।
৫) কোন নির্দিষ্ট এলাকার একাধিক ভবনে একাধিক আক্রান্ত লোক থাকলে ঐ নির্দিষ্ট এলাকা/গলি সম্পূর্ণ লকডাউন করা হবে।
৬) সকল গনপরিবহন (বাস ও লঞ্চে ) জ্বর ও অক্সিজেন মাপার যন্ত্র ব্যবহার করে যাত্রীদের পরীক্ষা করে উঠাতে হবে।
৭) সকল মার্কেটের প্রবেশ পথে জ্বর ও অক্সিজেন মাপার যন্ত্র ব্যবহার করে কাষ্টমারদের পরীক্ষা করে প্রবেশ করাতে হবে।
৮) সকল অফসেও জ্বর ও অক্সিজেন পরীক্ষা করে লোকজনকে ঢুকাতে হবে।
৯) মতলব দক্ষিণ উপজেলার পৌর এলাকার কল্লাদি+নবকলস এলাকায় ২০ জন রোগী থাকায় ঐ এলাকাটি রেড জোন ঘোষনা করার সুপারিশ করে জাতীয় কমিটির কাছে প্রেরণ করার জন্য সিভিল সার্জন কে অনুরোধ করা হয়েছে।
১০) কচুয়া উপজেলার ১০নং গোহট ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ১০জন রোগী থাকায় ঐ ওয়ার্ডটিকে কাল স্থানীয়ভাবে লকডাউন করা হবে।
১১) হাসপাতালে কীট, মৃতদেহ বহন করার ব্যাগ ও টেকনিক্যাল লোক বৃদ্ধির জন্য মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে সুপারিশ করবেন।
১২) আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসেবে চক্ষু হাসপাতাল ও ডায়বেটিকস হাসপাতাল কে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত হয়।
১৩) প্রয়োজনে বন্ধ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনকে আইসোলেশন ইউনিট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে মর্মে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয় নির্দেশনা দিয়েছেন।