৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  রাত ৯:১৬  ৬ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
২৪শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

ফরিদগঞ্জের চলাচলের রাস্তায় ধান গাছ লাগিয়ে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া (দঃ) ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের মানুষ চলাচলের রাস্তাটি দিন দিন বেহাল দশায় পরিণত হচ্ছে। দেখে মনে হয় শেখ হাসিনার উন্নয়নের কোন ছোঁয়া এই এলাকায় লাগেনি। যার ফলে এলাকাবাসীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

সরেজমিন দেখাগেছে, রাস্তাটিতে একেবারেই চলাচলের অযোগ্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এরই প্রতিবাদ জানাতেই রাস্তায় জমা কাদা পানির মধ্যে ধান গাছ লাগিয়ে এই অভিনব পদ্ধতিতে পথ অবরোধ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় এলাকাবাসীরা।

দেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে চলছে, তখন উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিন ইউনিয়নের দায়চারা, ইছাপুরা, রামদাশেরবাগ, চৌমুখা ও সাহাপুর এই ৫ গ্রামের মানুষের জেন ভোগান্তির শেষ নেই। যেন মনে হচ্ছে এই এলাকার গ্রামবাসীরা র্নিস্বাধীন দেশে বসবাস করে। উন্নয়নের মহাসড়ক থেকে যেন এলাকাবাসী ছিটকে পড়ছে নাম না জানা অন্য আরেক দেশে। ইছাপুরা পাটওয়ারী (চন্দের) বাড়ি থেকে সাহাপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ১ কিলো মিটার কাচা রাস্তার সংস্কার নেই দীর্ঘদিন ধরে। ফলে রাস্তার বড় বড় গর্তগুলো এখন এক একটি বিষপোঁড়া। একটু বৃষ্টি হলেই জমে যায় পানি, হয়ে যায় কর্দমাক্ত ফসলের মাঠের মত। এলাকাবাসীর এই রাস্তা ধরেই যাতায়াত করতে হয় উপজেলা সদরে ।

উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিন ইউনিয়ন পরিষদের কবি রূপসা, জামালপুর, বালিছাটিয়া, নদৌনা, দায়চারা, চৌঁমুখা, ইছাপুরা’র নাগরিক গনের ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার প্রধান রাস্তিই এইটি। কিন্তু বর্তমানে এই রাস্তাটি গাড়ি (রিক্সা, সিএনজি, ইজিবাইক) চলাচলের জন্য সম্পুর্ণভাবে অনুপযোগী। বৃষ্টি হলে কাঁদায় সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটেও এই রাস্তা ব্যবহার করতে পারছেনা।

১৬জুন (মঙ্গলবার) বিকেলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ইছাপুরা থেকে পাইকপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ধানের চারা রোপন করা হয়।


ফরিদগঞ্জ উপজেলার মধ্যে পাইকপাড়া (দঃ) ইউনিয়নটি অবহেলিত। ভোটের সময় ভোট আর পরে তেমন খবর নেওয়ার সময় পায়না জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ এলাকাবাসির।


চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নূরুল ইসলাম তারেক বলেন, দীর্ঘদিন থেকে দেখে আসছি রাস্তাটি শুধু মাপযোপ হচ্ছে কিন্তু রাস্তা করার কোন খবর নাই। রাস্তাটি পাঁকা হওয়া খুব জরুরি। ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি। কারণ জনপ্রতিনিধিদের বলে বলে হয়রান হয়েগেছি আর বলতে পারছি না।

পাইকপাড়া ইউজি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জীবন, শাম্মি, খেলাফত, রহমান জানায় বৃষ্টি হলে ওই রাস্তা দিয়ে ৩-৪ হাতও যাওয়া যায় না। তার পরেও রাস্তা বাদ দিয়ে অন্যের বাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অনেক সময় অন্যের গালাগালিও খেতে হয়।

স্থানীয় রিকশা চালক বাচ্চু শেখ বলেন, এখনও বর্ষা শুরু হয়নি তাতেই এই অবস্থা। দেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে হচ্ছে আশা করি এই রাস্তাটি পাঁকা করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা দ্রুতসীদ্ধান্ত নিবেন।

ইছাপুরা গ্রামের ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন মিঠুন বলেন, দেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। ফরিদগঞ্জেও অনেক এলাকার রাস্তা পাকা হয়েছে যে গুলো রাস্তায় মানুষ চলাচল করে না। অথচ পাইকপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা জনবহুল হওয়া সত্তেও পাঁকা হচ্ছে না। আমরা চাই রাস্তাটি দ্রুত পাকা হোক সাধারন মানুষের দূভোগ কমুক।

সুমন খান বলেন, আমাদের এলাকায় ডজনে ডজনে নেতা থাকার পরও কোন নেতা রাস্তাটির সমস্যা সঠিক জায়গাতে না যাওয়ায় পাঁকা হচ্ছে না। ফলে এলাবাসির দূর্ভোগের যেন শেষ নেই। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাটি চলাচলে অনুপযোগি হওয়ায় বিশেষ করে মাদ্রাসা, বিদ্যালয়, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পড়েন বিপাকে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং এমপি মহোদয়ের নিকট ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর আকুল আবেদন অতিশীঘ্রই এই রাস্তাটির বাজেট প্রনয়ণ করে রাস্তাপাকা করনের জোর দাবী জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্যের ইউনিয়ন প্রতিনিধি মোহাম্মদ হোসেন মিন্টু পাটওয়ারী বলেন, এ রাস্তা ইউনিয়নবাসীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অল্প বৃষ্টিতেই পানি ও কাদায় একাকার হয়ে যায়। এ সড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার সাধারন জনগনসহ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার পড়ুয়া কোমলমতি ছাত্র- ছাত্রী এবং এলাকার সাধারন মানুষ উপজেলা সদরের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এ সড়কটি। গত কয়েক মাস পূর্বে সরকারি বরাদ্দ আসলেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার অনিয়মের কারণে এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তা বন্ধ হয়ে যায়। এহেন অবস্থায় জনস্বার্থে রাস্তাটি পাকা করনে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সু- দৃষ্টি কামনা করছি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে আপনাদের (সংবাদ কর্মীদের) অন্য কোন কাজ নেই? এইকথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।