৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  দুপুর ২:৩৩  ২রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
২০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

ফরিদগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন প্রকল্পের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে আলী হোসেন ভূঁইয়ার বিবৃতি

নিজস্ব প্রতিনিধি

ফরিদগঞ্জে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন প্রকল্প নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশের করা সংবাদ সম্মেলনে আনিত অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি পাঠান তিনি।

বিবৃতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন প্রকল্পের কমিটি নিয়ে তিনি পায়তারা চালাচ্ছেন বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে তার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

গত ২৪ জুন সকালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মুক্তিযোদ্ধারা।

গণমাধ্যমে পাঠানো লিখিত বক্তব্যে আলী হোসেন ভূঁইয়া জানান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। উক্ত মিথ্যাচারের বিষয়ে তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ দিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে নানা ধরনের কাজ করে আসছি। আমার প্রিয় রণাঙ্গনের সাথী ভাইদের স্বার্থ রক্ষাই আমার ভ্রত। কখনো মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থ বিরোধী কোন কাজে নিজেকে জড়িত করিনি।

এছাড়া, সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা সফর আলী সওদাগর, মুক্তিযোদ্ধা শহীদ উল্ল্যা ও সারওয়ার হোসেন সহ আরো কয়েকজন তার বিরুদ্ধে সবৈর্ব মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছেন বলে তিনি দাবী করেন।

আলী হোসেন ভূইয়া আরো বলেন, তিনি কখনই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। এমনকি সোনালী ব্যাংক সিবিএর কোনা পর্যায়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করননি তিনি। শুধুমাত্র অভিযোগকারীরা তাদের বিগত দিনের দুর্নীতিকে ঢাকার জন্য এবং ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য বহুদিন ধরে পায়তারা করে আসছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া, বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে তার একটিও প্রমানিত হয়নি। মানুষের ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুন্ন করার প্রয়াসে মিথ্যাচার করা উল্লেখিত ব্যক্তিদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে, অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন প্রকল্পের কমিটি নিয়ে আলী হোসেন ভূইয়ার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা দাবী করে তিনি আরো বলেন, মূলত আবাসন প্রকল্প নিয়ে ঘুষ বানিজ্যির পায়তারা চালাচ্ছে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকারী একটি মহল। ইতোমধে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের পাকা ভবন করে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা অগ্রিম ঘুষ নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অপরএক অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতির পদ থেকে তাকে কখনো বহিষ্কার করা হয়নি। মূলত উল্লেখিত ব্যক্তিরা চক্রান্তে করে যাচাই-বাচাই কমিটি থেকে কিছু দিনের জন্য তাকে সরিয়ে রাখে। পরবর্তীতে যাচাই বাচাই কমিটি অমুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাতে অর্ন্তভুক্তির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্য করে। ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয় ফরিদগঞ্জ সহ সারা বাংলাদেশে ওই তালিকা স্থগিত করেছে।

এছাড়া, তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধকালীন প্লাটুন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন জানিয়ে বলেন, ভারতের আসামে লহারগঞ্জ প্রশিক্ষন কেন্দ্রে ভারতীয় সেনা প্রশিক্ষকরা আমাকে এফ এফ প্লাটুন কমান্ডারের দায়িত্ব দেন। আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব আমি সঠিকভাবে পালন করি। সে ক্ষেত্রে এই বিষয়টি নিয়ে বির্তকের কোন অবকাশ নাই।

বিবৃতি তিনি আরো বলেন, মূলত অভিযোগকারীরা নিজেদের বিগত দিনের অপকর্ম ঢাকার জন্য তার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। আগামী দিনে এই ধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার জন্য উপরোক্ত ব্যক্তিদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।