৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  দুপুর ১:৪১  ৩রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

ফরিদগঞ্জে সরকারি বরাদ্দের সাড়ে ১২ হাজার মন চাল ৫২ হাজার মানুষের মাঝে বিতরণ

আব্দুস সালাম :

মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাবের শুরুর পর থেকে সারাদেশে কর্মহীন হয়ে পড়ে লাখ লাখ মানুষ। করোনায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে নি¤œ আয়ের খেটে খাওয়া মানুষেরা। মহামারি এ ভাইরাসের প্রার্দুভাবের শুরু থেকে সারা দেশের ন্যায় ফরিদগঞ্জেও ছিলো সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ কার্যক্রম। গরীব, অসহায় নি¤œ আয়ের মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয় এ ত্রাণ।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ত্রাণ ও দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ফরিদগঞ্জে গত ২৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৬শ’ ৫০ মন চাল (৫০৬ মেট্রিক টন) ও নগদ ৩০ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। গত ৪ জুলাই পর্যন্ত ৫২ হাজার ৫শ’ ৯ হতদরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারের মাঝে বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ করা হয়। এছাড়া নগদ ৩০ লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে ৮০ হাজার টাকা এখনো বিতরণ করা হয়নি।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্ব-স্ব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রী ও নগদ টাকা বিতরণ করেন।

উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় যে হারে নগদ টাকা ও চাল বরাদ্দ করা হয় তা হচ্ছে, ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় ৮৪.৫ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ১নং বালিথুবা ইউনিয়নে ৩০.২০৮ মে.টন চাল ও নগদ ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭’শ টাকা, ২নং বালিথুবায় ২৭.১২৩ মে.ট. চাল ও নগদ ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭’শ টাকা, ৩নং সুবিদপুরে ২৭.১২৩ মে.ট চাল ও নগদ ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯’শ টাকা, ৪নং সুবিদপুরে ২৭.১২৩ মে.ট চাল ও নগদ ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯’শ টাকা, ৫নং গুপ্টিতে ২৯.০৭৩ মে.ট. চাল ও নগদ ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯’শ টাকা, ৬নং গুপ্টিতে ২৭.১২৩ মে.ট. চাল ও নগদ ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪ শত টাকা, ৭নং পাইকপাড়ায় ২৮.৫৮৩ মে.ট. চাল ও নগদ ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭’শ টাকা, ৮নং পাইকপাড়ায় ২৮.১৮৩ মে.ট. চাল ও নগদ ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪’শ টাকা, ৯নং গোবিন্দপুরে ৩০.১৮৩ মে.ট. চাল ও নগদ ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪’শ টাকা, ১০নং গোবিন্দপুরে ২৮.০৮৩ মে.ট. চাল ও নগদ ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯’শ টাকা, ১১নং চরদুঃখিয়ায় ২৭.১২৩ মে.ট. চাল ও নগদ ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭ শত টাকা, ১২নং চরদুঃখিয়ায় ২৭.৬২৩ মে.ট. চাল ও নগদ ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪ শত টাকা, ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণে ২৯.৬৮৩ মে.ট. চাল ও নগদ ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯’শ টাকা, ১৫নং রূপসা উত্তরে ২৭.১৩৩ মে.ট. চাল ও নগদ ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫’শ টাকা, ১৬নং রূপসা দক্ষিণে ২৭.১৩৩ মে.ট. চাল এবং নগদ ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬ শ টাকা।

এদিকে, একাধীক ইউনিয়নে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে স্বজনপ্রীতি, ওজনে কম দেওয়া, মেম্বার, চেয়ারম্যান এবং সচিবদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা সহ একাধিক অভিযোগ উঠে।

এবিষয়ে ১৫নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ৪ জন দিন মজুর এ প্রতিনিধিকে জানায়, তাদের মধ্যে একজন এ পর্যন্ত সাহায্য পেয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এদের একজন বলেন, প্রতিবেশীর কাছ থেকে চাল ও ডাল ধার নিয়ে কয়েকদিন চলেছি। তিনি আরও বলেন, ত্রাণের আশায় ইউনিয়ন পরিষদ ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ধর্না দিয়েছি। তবে ত্রাণ মেলেনি।

১৫নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. ইব্রাহিম বলেন, তিনি এলাকায় শিশুদের মাঝে সরকারি বরাদ্দের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। কিন্তু কোন কোন পরিবারকে তা দিয়েছেন তা বলতে পারেননি তিনি।

১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত সব চাল এবং নগদ টাকা পেয়েছি। আমি তা সঠিকভাবে বিতরণ করেছি।’

ওজনে অথবা পরিমানে কম দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিউলী হরি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এরকম কোনো অভিযোগ আমি পাইনি। যদি পাই আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো। সরকারি নিয়ম শতভাগ পালন করতে হবে।’