৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  বিকাল ৫:২৫  ৭ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
২৫শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

ফরিদগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং, জনজীবন অতিষ্ঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ফরিদগঞ্জে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ঘন্টা বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছেই। দিনে রাতে কতবার বিদ্যুৎ আসে আর যায় তার হিসাব রাখা কঠিন। অসহনীয় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকরা।

গ্রাহকদের অভিযোগ, আকাশে মেঘ দেখা দিলে বিদ্যুৎ চলে যায়। আর ঝড়ো হওয়া হলেতো আর বিদ্যুতের দেখাই মিলে না।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ১ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। ০৮ টি ফিডারে বিভক্ত করে বিদ্যুৎ সঞ্চালন সরবরাহ হচ্ছে। বিদ্যুতের চাহিদা ২৩/২৪ মেঘাওয়াট। প্রাপ্তি ২৩/২৪ মেঘাওয়াট হওয়া শর্তেও বিদ্যুৎ লাইন ক্যাপাসিটির অভাবের ওজুহাতে সঠিক ভাবে সঞ্চালন করা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে গ্রাহকের ভোগান্তির শেষ হচ্ছে না। সকল পেশা ও শ্রেণীর মানুষের লোডশেডিং এ ত্রাহি দশা। নিস্তারের দাবী গ্রাহকদের।

বিশেষ করে উপজেলার ৪০-৪২টি বাজারের ব্যবসায়ীরা বিদ্যুতের অসহনীয় ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। সঠিকভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারছে না তারা।

পল্ট্রি শিল্পের সাথে জড়িত অনেকেই জানান, আমাদের ফার্মগুলোতে তীব্র গরমে মুরগিগুলো মরার উপক্রম হয়েছে। তাছাড়া সেলসের জন্য রাখা দোকানগুলোতে মুরগী মরে যাচ্ছে গরমে।

উপজেলার অঞ্চল ভেদে লোডশেডিং কমবেশি হচ্ছে। তবে ৪ নং ও ৫নং ফিডারে সব চেয়ে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে বলে গ্রাহকদের অভিযোগ।

এদিকে, বিদ্যুৎ অফিসে স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছে না। উপচে পড়া ভিড় সৃষ্টি করে বিদ্যুৎ বিল প্রদান ও অন্যান্য কাজ চলছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি থাকার অভিযোগ উঠেছে। সঠিকভাবে বিদ্যুতের মিটার রিডিং নেওয়া ও গ্রাহক পর্যায় বিল কপি পৌঁছানো না হওয়ায় হয়রানীর স্বীকার হচ্ছে গ্রাহকরা। অপরদিকে ব্যাংগুলো প্রায়শই বিল না নিয়ে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিচ্ছে। আজ নয় কাল নেবো বলে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিস কোন বিহিত করতে ব্যার্থ হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম মো. কামরুল হাসান জানান, আমাদের গ্রাহক সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার। বিদ্যুতের চাহিদা ও প্রাপ্তিতে কোন সমস্যা নেই। তাছাড়া অত্র উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়িত হয়েছে। লোডশেডিং নেই বলছেন তবে সমস্যা কোথায় উত্তরে বলেন, সব‘কটি ফিডার আপডেট করা হচ্ছে তাই কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। ঝড়বৃষ্টি ও লাইন মেরামত জনিত কারণেই সমস্যা হয়। একে লোডশেডিং মানতে নারাজ তিনি।

এদিকে, রূপসা ও গৃদকালিন্দিয়া সাব-ষ্টেশনের কাজ সম্পন্ন হলে আর কোন সমস্যা হবে না বলে দাবী করেন এ কর্মকর্তা। তবে লাইন ক্যাপাসিটির অভাবে চাহিদানুপাতে বিদ্যুৎ দিতে পারছেন না বলে আরো জানান তিনি। ফিডারগুলোর কাজ আপডেট হলে আশা করি নিরব্বচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।

অতিরিক্ত বিল করার বিষয়ে তিনি জানান, গ্রাহকরা অনেকেই বিষটি বুঝেনা। সম্প্রতি বিদ্যুতের ভাড়তি রেইট নির্ধারিত হওয়ায় ও গরমের কারণে বিদ্যুৎ ব্যয় বেশি হওয়ার কারণে বিল বেশী হচ্ছে।