১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  রাত ১:২১  ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

ফরিদগঞ্জে মার্কেট মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের মারধরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি :

ফরিদগঞ্জের কলাবাগান মার্কেটের মালিকের বিরুদ্ধে ভাড়াটিয়াদের মারধর সহ নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দুই মাসের অগ্রিম ভাড়া প্রদানে বিলম্ব হওয়ায়কে কেন্দ্র করে কলাবাগান বাজার মার্কেটের ব্যবসায়ী গ্রামীণ বস্ত্রালয়ের সত্ত্বাধিকারী আবুল হোসেন জহিরের উপর এ মারধরের অভিযোগ সংবাদ সম্মেলন করেছে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২০ খ্রি.) বিকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবুল হোসেন জহির তার উপর মার্কেটের মালিক ফরিদ আহম্মেদ রিপন গংদের মারধরের ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে জহির বলেন, আমি ১০ লক্ষ টাকা অগ্রিম সালামি দিয়ে মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাড়ায় বিগত ১৪ বছর ধরে কলাবাগান মার্কেটে ব্যবসা করে আসছি। গত ৩ জুলাই শুক্রবার মার্কেট কর্তৃপক্ষ আমাকে দুই মাসের ভাড়া অগ্রীম প্রদান করতে ২০ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে নোটিশ প্রদান করে। আমি ২১ জুলাই অগ্রিম ভাড়ার টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেই। ২১ জুলাই মালিক পক্ষের ফরিদ আহমেদ রিপন আমার কাছ থেকে টাকা নিতে আসেন। দোকানে ক্রেতা থাকায় টাকা প্রদানে সামান্য বিলম্বের ইচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন। এক পর্যায়ে পাশ^বর্তী দোকান থেকে গজ (কাপড় পরিমাপের দন্ড) নিয়ে আমাকে বেদম প্রহার করেন।

মৌখিক বক্তব্যে জহির আরো বলেন, মালিক পক্ষের অপর একজন মিলন হোসেনকে ঘটনার বিষয় অবহিত করতে গেলে তিনিও আমাকে কলার চেপে ধরে মারধর করেন। মালিক পক্ষের আরো একজন নুরুন্নবী নোমানকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি আমাকে বলেন এ মার্কেটে মার খেয়ে ব্যবসা করতে পারলে করো, না হয় দোকান ছেড়ে দাও।

জহির আরো বলেন, মার্কেটের মালিক পক্ষ আমাকে দোকানের তিন বছর মেয়াদী চুক্তি নামা প্রদান করেছেন। চুক্তি নামার মেয়াদ এক বছর বা তার বেশী সময় থাকতেই চুক্তি ভঙ্গ করে মালিক পক্ষ আমার কাছ থেকে তিন বার অগ্রিম (এ্যাডভান্স) টাকা নিয়েছেন। শুধু তাই নয় কলাবাগান মার্কেটের তৃতীয় তলায় একটি টর্চার সেল আছে দাবী করে ক্ষুদ্ধ ব্যবসায়ীরা আরো বলেন, এই মার্কেট থেকে যে সকল ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে চলে গেছেন তাদের অনেকের অগ্রিম টাকাও মালিক পক্ষ পরিশোধ করেননি।

একই সংবাদ সম্মেলনে উক্ত মার্কেটের অপর ব্যবসায়ী মোবাইল বাজারের স্বত্তাধিকারী সৌরভ হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ফরিদ আহমেদ রিপন গত কয়েক মাস পূর্বে আমাকে ঝাড়ু পেটা করেন। ওই মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী তাদের হাতে প্রায় লাঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ফরিদগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক ওহিদুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী ভাড়াটিয়াদের প্রতি সহনশীল আচরনের আহবান জানালেও কলাবাগান কর্তৃপক্ষ সে আহবানের প্রতি দৃষ্টতা প্রদর্শন করেছে। ভাড়া মওকুফ দূরে থাক উল্টো অগ্রীম টাকা প্রদানে কয়েক মিনিট সময় বিলম্বের অযুহাতে তারা ব্যবসায়ীকে মারধর করেছে। অতীতেও এ মার্কেটের অনেক ব্যবসায়ী মারধরের শিকার হয়েছেন এবং অনেকেই দোকান ছেড়ে গেলেও তারা তাদের অগ্রীম প্রদানকৃত টাকা ফেরত পাননি বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। কলাবাগান পরিবারের এ অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ভূমিকা নিতে সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সংবাদ সম্মেলনে ফরিদগঞ্জ বাজারের শতাধিক ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।

উলেখ্য, সংবাদ সম্মেলনের পূর্বে কলাবাগান মার্কেটর মালিকদের অসদআচরনের বিচার চেয়ে বাজারের ৪৯২ জন ব্যবসায়ীর স্বাক্ষরিত স্বারকলিপি স্থানীয় এমপি, পুলিশ সুপার চাঁদপুর, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌর মেয়র, অফিসার ইনচার্জ বরাবরে পাঠানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ফরিদগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির আহবায়ক অহিদুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা গাফফার হোসেন সজিব, ফরিদগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. সবুজ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব ফরিদগঞ্জের সভাপতি এমকে মানিক পাঠান, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বেলাল, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লবে’র সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছোবহান লিটন সহ ফরিদগঞ্জে কর্মরত বিভিন্ন প্্িরন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক সহ বাজারের ব্যবসায়ীরা।