৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  বিকাল ৩:০০  ২রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
২০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

ফরিদগঞ্জ পৌরসভাকে বদলে দিতে যে অঙ্গীকার করলেন মেয়র প্রার্থী মনির

বিশেষ প্রতিবেদন :

ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আকবর হোসেন মনির। তারুণ্যের উদ্যোমতায় ভরা এ যুবক ফরিদগঞ্জ পৌরসভাকে বদলে দিতে চান। নিশ্চিত করতে চান পৌরসভার নাগরিকদের নায্য অধিকার।

সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক কৌশল, বাচনভঙ্গি ও সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ- এ চারটি বৈশিষ্ট্যের কারণে আকবর হোসেন মনির আওয়ামী লীগ ছাড়াও সকল শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীতা সহ নানা বিষয় নিয়ে কথা হয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ডেইলি ফরিদগঞ্জ’এর এ প্রতিনিধির সাথে।

মেয়র পদে প্রার্থী হবেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কবি হেলাল হাফিজের লেখা নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় কবিতার বিখ্যাত চরণ ‘এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়; এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ উদ্ধৃত করে বলেন, অসাধ্যকে সাধন করার উৎকৃষ্ট সময় হচ্ছে যৌবনকাল। যা কিছু ভালো, মানবিক ও কল্যাণকর তা এখনই করো। পৌরবাসীর কল্যাণে দায়িত্ব নিয়ে ভলো কাজ করার উৎকৃষ্ট সময় এখনই বলে আমি মনে করি।

অপরএক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখুন দীর্ঘ একযুগ সরকার পরিচালনায় আওয়ামী লীগ থাকলেও দক্ষ ও যোগ্য জনপ্রতিনিধির অভাবে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। সব সময় ফরিদগঞ্জ পৌরসভা অবহেলিত ও উন্নয়নে পিছিয়ে ছিলো। যা দেশের অন্যান্য পোরসভার দিকে তাকালে স্পষ্ট।

তিনি বলেন, পৌর নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নামকাওয়াস্তে একটি প্রতিষ্ঠান রুপ নিয়েছে। এর নিজস্ব কোন ভবন নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পুরাতন ভবন ভাড়া নিয়ে চলছে পৌরসভার দাপ্তরিক কার্যক্রম। পাশ্ববর্তী চাঁদপুর সদর ও হাজীগঞ্জ পৌরসভায় গ্যাস সংযোগ থাকলেও এখানে নেই। পৌরসভার নাগরিকদের জন্য নেই নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এছাড়া পৌরসভার অধিকাংশ বাড়ির রাস্তাই এখনো কাঁচা। জনগুরুত্বপূর্ণ অনেক রাস্তা ভাঙ্গাচুরা, জনসাধারণের চলাচলের অনুপোযুক্ত। এখানে নেই সু-শাসন। এমনকি পৌরসভার নাগরিকদের মৃত্যুর পর লাশ দাফনের জন্য কোন পৌর গোরস্থানের ব্যবস্থাও নেই। এক কথায় নেই আর নেই এর নাম ফরিদগঞ্জ পৌরসভা।

প্রকৃতঅর্থে পৌর নাগরিকদের কাছ থেকে রাজস্ব/কর আদায়ের পূর্বে উপরে উল্লেখিত সমস্যাগুলো জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। এক্ষেত্রে আমার চেষ্টা থাকবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এসকল সমস্যা সমাধান করা।

এছাড়া আরও বলেন, আমার লক্ষ্য ফরিদগঞ্জ পৌরসভাকে দুর্নীতিমুক্ত, কার্যকর ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলা। সে ক্ষেত্রে সকল নির্বাচিত কাউন্সিলারকে সাথে নিয়ে যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আমি পৌরসভা পরিচালনা করবো।

পৌরসভার সম্পদ বৃদ্ধি সহ স্থানীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করবো। উন্নয়ন কর্মকান্ডের পরিধি ও বিস্তৃতি বাড়ানোর জন্য শুধুমাত্র সরকারি বরাদ্দ ও অনুদানের উপর নির্ভর না করে পৌরসভার নিজস্ব আয়ের উৎস সৃষ্টিতে সচেষ্ট হবো।

পৌরসভার নাগরিকদের মৌল ও মানবিক চাহিদা নিশ্চিত করতে খাদ্য, বস্ত্র, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা প্রভৃতি স্থানীয় মানুষদের সংগঠিত করে সামাজিক পুঁজি গঠন তথা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবো। পাশাপাশি সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তি সহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে উদ্যোগ গ্রহণ করবো।

এছাড়া, আমাদের সমাজে বিরাজমান পারস্পরিক বিরোধিতার যে সংস্কৃতি তার পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে স্থানীয় উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ সহ স্থানীয় সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করবো।

পৌরসভাকে প্রকৃত অর্থেই উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার লক্ষ্যে দীর্ঘ মেয়াদী একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবো। পাশাপাশি বছর ভিত্তিক জনঅংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় জনগণের সমস্যা চিহ্নিতকরণ সহ অগ্রাধিকার নির্ণয়পূর্বক বার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করবো।

এছাড়া, ৬ মাস পর পর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে নতুন কর্মপদ্ধতি হাতে নেব। বার্ষিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে পৌরসভার বাজেট প্রণয়ন করবো এবং উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশনের আয়োজন করে বাজেট ঘোষণা করবো। প্রতি অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সংশোধিত বাজেট ঘোষণা করবো। পৌরসভার সকল কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি পরিহার করে জনগণের প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতে কাজ করবো।

বিশেষ করে নারীর অবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার থাকবে। ইভটিজিং বন্ধ, নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহ, বহু বিবাহ, যৌতুক, খুন, ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ সহ নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলবো।

এছাড়া, মুক্তিযোদ্ধা, অসহায় ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এবং প্রতিবন্ধী সহ সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করবো এবং তাদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবো।

শিক্ষা বিস্তার সহ শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবো এবং আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য বেকার যুবকদের সংগঠিত করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের আত্মনির্ভরশীলতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবো এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো।

পৌরসভার প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা সহ নগরের সৌন্দর্য বর্ধনে সচেষ্ট থাকবো। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা গড়ে তোলা এবং যে কোন প্রকার পরিবেশ দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ গ্রহণ করবো।

প্রতিবছর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পদ, আয়-ব্যয় ও দায়-দেনার হিসাব প্রকাশ করবো।

ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি হিসেব আমার এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহযোগীতার জন্য আওয়ামী লীগের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, চাঁদপুরের কৃতি সন্তান সফল শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সফল সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমান, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

আর্দশিক রাজনীতির প্রসঙ্গটেনে আকবর হোসেন মনির আরও বলেন, জাতির জনকের কন্যা মানননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে আমার অভিভাবক সাবেক গণপরিষদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সুযোগ্য সন্তান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমান নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমি দলের একজন কর্মী হিসেবে অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমান ভাইয়ের দেখানো পথে হেঁটে যেতে চাই। আমার কর্মে, চিন্তা-চেতনায়, শয়নে-স্বপনে, জাগরনে-বিচরনে আদর্শবান নেতা অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান ভাই। আমি ফরিদগঞ্জের মানুষের কল্যাণের স্বার্থে আমার অভিভাবক অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমান ভাইয়ের আর্দশকে বাস্তবায়ন করতে চাই। তিনি নেতা-কর্মী গড়ার কারিগর। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার একজন অগ্রগামী সৈনিক। ফরিদগঞ্জ পৌরসভার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ তাঁর নেতৃত্ব এবং নির্দেশনায় সমাপ্ত হবে, ইনশাআল্লাহ। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতার জন্য ফরিদগঞ্জ পৌরবাসীর সমর্থন ও সহযোগিতাই হবে আমার অনুপ্রেরণা এবং সামনে এগিয়ে চলার পাথেয়।

উল্লেখ্য, আকবর হোসেন মনির বর্তমানে তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া, তিনি ফরিদগঞ্জ পৌরসভা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক, ১৩নং ফরিদগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সহ সভাপতি ছিলেন।