৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  ভোর ৫:৩৮  ১লা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
২০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থীতা নিয়ে যা বললেন ওয়াহিদুর রহমান রানা

নিজস্ব প্রতিনিধি :

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ওয়াহিদুর রহমান রানা। তিনি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্প্রতি ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে তিনি মেয়র পদে প্রার্থী হচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসুবকে এমন প্রচারে সরব তার অনুসারীরা। ছাত্রলীগের সাবেক এ নেতার মেয়র পদ প্রার্থীতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গণে চলছে নানামুখী আলোচনা।

‘ডেইলি ফরিদগঞ্জ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াহিদুর রহমান রানা বলেন, দলীয় সমর্থন নিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনগনের স্বার্থে কাজ করেছিলাম। জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে উপজেলা পরিষদের কাজগুলো স্বচ্ছভাবে করার চেষ্টা করেছি। কোন অনিয়ম দুর্নীতির সাথে আপোস করিনি। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করি।

মেয়র পদে প্রার্থীতার বিষয়ে তিনি বলেন, ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধীতা করার জন্য জনগন যদি চায় তাহলে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চাইবো। সেক্ষেত্রে দল যদি মনোনয়ন দেয় তাহলে জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য মেয়র পদে প্রার্থী হবো। তবে এ বিষয়টি নিয়ে এখন আর কিছু বলতে চাই না।

জানা যায়, ১৪ নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিন ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম শওকত আলী খাঁনের সন্তান সাবেক ছাত্রনেতা ওয়াহিদুর রহমান রানা ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা।

ছাত্রলীগের সাবেক এ নেতা ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি-জামাত সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এছাড়া তিনি দেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ভ্যানগার্ড ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্যে দিয়ে সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকাবস্থায় তিনি সামনে থেকে ছাত্র ছাত্রলীগের নেতৃত্ব প্রদান করেন। ওই সময় সরকারি দলের দমন পিড়ন নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি জেলখাঁটেন।

১৯৯০-৯১ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ফরিদগঞ্জ উপজেলা শাখার সদস্য সচিব নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত।

পরে, ২০০৪ সালে তাকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৬ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ওই সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

এদিকে, ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের বর্তমান দলীয় কর্মকান্ড নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এক সময়ে ফরিদগঞ্জে বিএনপির কথিত ঘাঁটি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ড. শামছুল হক ভূইয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে পরিনত হয়। আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন তিনি। ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, মহিলা যুব লীগ এর সুশৃঙ্খল কমিটি গঠন করেছিলেন। আর তখন এটি শুধুমাত্র সম্ভব হয়েছিলো দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার কারণে। তখন ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগ ছিলো অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুসংগঠিত। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয় বর্তমানে ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগ বিশৃঙ্খল। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা বিভক্ত। যা দলের জন্য অসনি সংকেত বলে আমি মনে করি।