৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  দুপুর ১:২৯  ৩রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

ফরিদগঞ্জ পৌরসভার উন্নয়নে যে ৬টি পরিকল্পনার কথা জানালেন মেয়র প্রার্থী খলিলুর রহমান

গাজী মমিন:
ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. খলিলুর রহমান। তিনি ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের নির্বাচি কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-১ হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। খলিলুর রহমান প্রার্থী হিসাবে নিজের অবস্থান জানান দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিন দলীয় নেতাকর্মী সহ সামাজিক ও ধর্মীয় নানা কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মেয়র পদ প্রার্থী হিসাবে ভোটারদের কাছে দোয়া কামনা করছেন তিনি। ফরিদগঞ্জ পৌরবাসীর উন্নয়নে খলিলুর রহমান কি ভাবছেন। গত ৫ বছর কাউন্সিলর হিসাবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকে পৌর নাগরিকদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে কি পরিকল্পনা করছেন তিনি।
এসব বিষয় নিয়ে কথা হয় এ প্রতিনিধির সাথে। খলিলুর রহমান বলেন, যে উদ্দেশ্যে নিয়ে ২০০৫ সালে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার যাত্রা শুরু হয় তা এখনো স্বপ্নই রয়ে গেছে। টানা ১২ বছর মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারী দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও ফরিদগঞ্জ পৌরসভা বা নাগরিক উন্নয়ন সংস্থাটি পৌর নাগরিকদের কতটুকু সেবা দিতে পেরেছে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হলেও আমাদের পৌরসভা পিছিয়ে আছে কেনো। আমি এর উত্তরে একটাই বলবো যোগ্য প্রতিনিধির অভাবে আমরা কাঙ্খিত উন্নয়ন বঞ্চিত, অবহেলিত। আমি পৌরসভার নাগরিকদের উন্নয়নে ৬টি বিষয়ের উপর সবার্ধিক গুরুত্ব দিতে চাই। প্রথমত, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার নিজস্ব কোন ভবন নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পুরাতন ভবন ভাড়া নিয়ে চলছে পৌরসভার দাপ্তরিক কার্যক্রম। অন্যের ঘর ঠিক করার আগে নিজের ঘর ঠিক করা জরুরী। পৌর সভার ভবন নির্মানের জন্য স্থান নির্ধারণ করে নিজস্ব ভবন নির্মান করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, পৌরসভার নাগরিকদের অন্যতম চাহিদা হচ্ছে গ্যাস সংযোগ। শুধুমাত্র গ্যাস সংযোগ থাকলে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার উন্নয়নের দৃশ্যপট বদলে যেতো। এখানে স্থাপিত হতো শিল্প কলকারখানা। কৃষি থেকে শহরায়নের দিকে অগ্রসর হতো পৌরসভা। ব্যবসায়িকভাবে জমে উঠতো ফরিদগঞ্জ। পৌরসভার রাজস্ব আয় বেড়ে যেতো। পাশ্ববর্তী চাঁদপুর সদর ও হাজীগঞ্জ পৌরসভায় গ্যাস সংযোগ থাকলেও এখানে নেই। অবিলম্ব গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা করা জরুরী বলে আমি মনে করি।
তৃতীয়ত, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফরিদগঞ্জবাসীর জন্য শতভাগ বিদ্যুতের ব্যবস্থা করলেও পৌরসভার নাগরিকদের জন্য এখনো নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়নি। লোডশেডিং এর কারনে এখানকার জনগনকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। পৌরসভার নাগরিকদের নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা এখন সময়ের দাবী। চতুর্থ, উন্নয়নের অন্যতম পূর্ব শর্ত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। গত ৫ বছরে পৌরসভার প্রধান প্রধান সড়ক পাকা করা হলেও অধিকাংশ গ্রামীন ও বাড়ির রাস্তা এখনো কাঁচা, ভাঙ্গাচুরা। পৌর নাগরিকদের উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কাঁচা সড়কগুলোকে পাকা করা প্রয়োজন বলে আমি। প্রঞ্চম, ফরিদগঞ্জে একাধীক অগ্নিকান্ডে শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বহু চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্থান নির্ধারিত হলেও নির্মান কাজ এখনো শুরু হয়নি। অগ্নিকান্ডের ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধে দ্রæত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মান কাজ শেষ করতে হবে। ষষ্ঠ, পৌরসভার নাগরিকদের মৃত্যুর পর লাশ দাফনের জন্য কোন পৌর গোরস্থানের ব্যবস্থা নেই। পৌর গোরস্থানের ব্যবস্থা করাও অত্যন্ত জরুরী বলে আমি মনে করি।
একজন মেয়র প্রার্থী হিসাবে আমার অঙ্গীকার এ পদে নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উপরোক্ত সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সামধান করবো। এছাড়া, খলিলুর রহমান আরও বলেন, প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর হিসাবে দায়িত্ব পালনের সময় আমি দেখেছি পৌরসভার উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়গুলো কি। শুধুমাত্র নামেই নয় ফরিদগঞ্জ পৌরসভাকে দুর্নীতিমুক্ত, কার্যকর ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তুলতে আমি বদ্ধ পরিকর। পৌরসভা পরিচালতি হবে কাউন্সিলারদের যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে। এখানে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে পারলে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে। এতে করে শুধুমাত্র সরকারি বরাদ্দ নয় পৌরসভার নিজস্ব আয়ের উৎস সৃষ্টি হবে। পৌরসভায় যে সকল সকল সরকারি হালট রয়েছে তা উদ্ধার করে জলাবদ্ধতা নিরসন করা হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন করে নদী দূষণ প্রতিরোধ সহ পরিবেশ রক্ষা করা হবে। ফরিদগঞ্জ পৌরসভা হবে সন্ত্রাস, মাদক, ইভটিজিং, নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহ, বহু বিবাহ, যৌতুক, খুন, ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ সহ নানা ধরনের অপরাধমুক্ত কল্যাণমূলক একটি নাগরিক সংস্থা। আগামী দিনের পথচলায় পৌরবাসী সহ সকলের আন্তরিক সহযোগীতা ও সমর্থন কামনা করছি