১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  রাত ১১:৩০  ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা সভায় উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষোভ প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভায় পরিষদের বিভিন্ন অনিয়ম ও সমন্বয়হীনতার কারনে  উপজেলা চেয়ারম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায়  উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি হরির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান বলেন, সরকার যখন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে তখন কিছু অসাধু লোক জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা উপেক্ষা করে দেশের সম্পদ বিনষ্ট করছে।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষ উপলক্ষ্যে সারাদেশে এককোটি গাছের চারা রোপনের নির্দেশনা এবং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অথচ ফরিদগঞ্জে কারনে অকারনে অবাধে কাটা হচ্ছে গাছ। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে, টেন্ডার প্রক্রিয়া না মেনে জনৈক স’মিল ও কাঠ ব্যবসায়ীর যোগসাজসে সরকারী রাস্তা ও প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রি করা হচ্ছে। এতে কয়েকজন ব্যক্তি অর্থ বিত্তের মালিক হয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে দেশকে।  পরিষদে সমন্বয়হীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা জনগনের রায় নিয়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে এসেছি। অজনগনের কাছে তাই আমাদের

জবাবদিহীতা একটু বেশীই প্রত্যাশা করে। পরিষদের অর্থে কিছু দৃশ্যমান কাজ হওয়া উচিৎ। অন্যাণ্য উপজেলার তুলনায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার রাস্তাঘাট পরিমানে বেশী খারাপ। গাড়ীতো দুরে থাক অনেক রাস্তা দিয়ে আমি পায়ে হেটে যেতেও কষ্ট হচ্ছে। অতীব গুরুত্বপূর্ন এবং জনবহুল এলাকার রাস্তাগুরি প্রয়োজনে ছোট ছোট স্কীম দিয়ে সংস্কার করা উচিৎ। আমি চেষ্টা তদবীর করেছিলাম এডিবির বরাদ্দের পরিমান বাড়িয়ে আনার জন্য, অথচ পরিষদের ভূলের কারনে গত জুনে প্রায় উনিশ লক্ষ্য টাকা ফেরৎ গেছে। সমন্বয়হনিতার কারনে বাড়তী ফান্ড আনা দুরে থাক, মুল ফান্ডই ফেরৎ যায়। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জি এস তছলিমের প্রস্তাবনায় মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার প্রয়াত লে. কর্নেল (অবঃ) আবু ওসমান চৌধুরীর সম্মানে এক মিনিট নিরবতা পালন ও প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, এক সময় ফরিদগঞ্জকে রাজাকার মান্নানের এলাকা হিসাবে চিনতো, এখন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার প্রয়াত লে. কর্নেল (অবঃ) আবু ওসমান চৌধুরীর নামে চিনবে।এসময় ফরিদগঞ্জ থেকে চান্দ্রা সড়কটি আবু ওসমান চৌধুরীর নামে নামকরন করার সম্মতি জ্ঞাপন করেন তিনি। প্রেসক্লাব সভাপতি কামরুজ্জামানের প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে ফরিদগঞ্জ বাজারের নিয়মিত জানজট নিরসনে বাজার থেকে কেরোয়া লিংক রোডের মোড়টি প্রসস্থ্য নদীর উপর আরো একটি ব্রিজ নির্মান এবং বাইপাস সড়ক করার বিষয়ে কায়করী পদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলেও বক্তব্য রাখেন। মাসিক সমন্বয় সভার পর আর কোন বিষয়ে সমন্বয় থাকে না উল্লেখ করে তিনি সকলের উদ্দ্যেশ্যে সকলের সহযোগিতা ও সমন্বয় চেয়েছেন , তা না হলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া যাবে না।

উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিউলি হরি বলেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা একটি বড় উপজেলা, চাহিদার সীমাবদ্ধতা না থাকলেও সরবরাহের ক্ষেত্রে এবং নিয়মনীতির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চাইলেও সকল অপরাধ বা দূর্নীতি একত্রে দূর করা একটু কঠিন। আমারা প্রশাসনের সকলস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পরিবার পরিজন হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই দূর্যোগ মূহুর্তে দায়িত্ব পালনে কোন কার্পন্য করছি না। সুষ্ঠ ও সঠিক কার্যক্রম চারিয়ে যেতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

থানা (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা আব্দুর রকিব বলেন, সারাদেশে মাদকের অস্থিরতা একটু বেশী ইতিমধ্যে আমরা একাধিক ইয়াবার চালানসহ অনেককে গ্রেফতার ও মামলা দিয়ে হাজতে প্রেরন করেছি। গতরাতেও ২১৪৫পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছি।

শেষ পর্বে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে জাতীয় ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২০ অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আশরাফ আহাম্মেদ চৌধুরী বলেন, দেশে এখন শিশু মৃত্যুর হার অনেক কম। প্রতিবৎসর ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কারনে বিভিন্ন রোগ ও প্রতিবন্ধিতার হারও কমে এসছে। তিনি ভিটামিন এ ক্যাপসুলের গুনাগুন সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ কর্মসূচী পালন করা হবে বলেও জানান।

এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজুদা বেগম, সমাজ সেবা কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন, প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. জ্যোতিময় ভৌমিক, কৃষি কর্মকর্তা আশিক জামিল, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিল্টন দস্তিদার, প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুল ইসলাম ছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, ফরিদগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ  উপস্থিত ছিলেন।