১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  সকাল ১০:৪২  ১২ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

সাভারে ভাইয়ের কাছ থেকে অসুস্থ বোনকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা

বার্তা কক্ষ:

ঢাকার সাভারে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ভাইয়ের কাছ থেকে অসুস্থ বোনকে ছিনিয়ে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান (২০) নামে এক তরুণের বিরুদ্ধে।

২০ সেপেটম্বর রোববার রাতে ঢাকার সাভার পৌরসভার পালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কিশোরীর নাম নীলা রায় (১৪)। সে স্থানীয় অ্যাসেড স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বালিরটেক গ্রামের নারায়ণ রায়ের মেয়ে। তবে পরিবারের সঙ্গে সে সাভার পৌরসভার কাজিমুকমাপাড়া এলাকায় থাকত।

পরিবার সূত্র জানায়, নীলাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন কাজিমুকমাপাড়ার পাশের এলাকার ব্যাংক কলোনির আবদুর রহমানের ছেলে কলেজছাত্র মিজান।

রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে নীলাকে নিয়ে তার ভাই অলক রায় রিকশায় হাসপাতালে যাচ্ছিলেন।

এ সময় অস্ত্রের মুখে নীলাকে টেনেহিঁচড়ে রিকশা থেকে নামিয়ে পালপাড়া এলাকায় নিয়ে যায় মিজান। সাভার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের উল্টো দিকের একটি গলির ভেতরে নিয়ে নীলার গলায়, পেটে, মুখে ও ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

নীলার বড় ভাই অলক রায় জানান, বাসা থেকে নেমেই তারা মিজানকে দেখতে পান। রিকশা নিয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর পেছন থেকে এসে মিজান গতিরোধ করেন। তার হাতে দুটি বড় ছুরি ছিল। রিকশার গতিরোধ করে মিজান বোনের সঙ্গে কথা আছে বলে রিকশা থেকে নামতে বলেন। তিনি বাধা দিলে মিজান তাকে হত্যার হুমকি দেয়।

সাভার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের উল্টো দিকের একটি গলির ভেতরে নিয়ে নীলার গলা, পেট, মুখ ও ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

বোনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে থানা রোডের প্রাইম হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেখানেই চিকিৎসাধীন থেকে নীলার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। সেই সঙ্গে সাভার থানায় একটি মামলারও প্রক্রিয়া চলছে।

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।