১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  রাত ১:৫১  ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

ফরিদগঞ্জে মানুষ ও মানবতার জন্য ওসি আবদুর রকিবের অনন্য দৃষ্টান্ত

গাজী মমিন,ফরিদগঞ্জ:
পুলিশ কর্মকর্তা হলেও অসহায় মানুষের কাছে মানবতার সেবক হিসেবে পরিচিত চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনর্চাজ আবদুর রকিব। অসহায়দের কাছে পুলিশ কর্মকতা হিসেবে নন, একজন অভিভাবক হিসেবেই পাশে থেকে রেকর্ড গড়ে চলেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। ওসি আবদুর রকিব ফরিদগঞ্জ থানায় যোগদান করারপর থেকে তাঁর কঠোরতায় উপজেলায় মাদকের প্রবনতা হ্রাস পেয়েছে। চাঁদাবাজ ও ছিনতাই প্রবনতা নেই বললেই চলে। আগেরমত চুরি-ডাকাতির ঘটনাও প্রায় শূন্যের কোটায়। অপরাধ দমনে তিনি কঠোর হলেও অসহায় মানুষের কাছে তিনি পরম শ্রদ্ধাভাজন হিসেবে পরিচিত।


মানুষ অসহায় হয়েই পুলিশের কাছে আসে। পুলিশ হয়তো সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে না, কিন্তু মনযোগ দিয়ে তাদের কথাগুলো শোনেন এবং করণীয় সম্পর্কে তাদেরকে বুঝিয়ে বলেন ওসি আবদুর রকিব। সামান্যতম অহংকারও তাঁর মাঝে নেই। পুলিশ জনতা-জনতাই পুলিশ, পুলিশ জনগনের বন্ধু এবং সেবক, এই কথাগুলো বাস্তবে প্রমাণ করেছেন তিনি। মানবতার সেবক হিসেবে প্রতিবন্ধী ও এতিম অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।অসহায়দের পাশে থাকার ধারাবাহিকতায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার গভীর রাতে টহলরত পুলিশের মুঠো ফোনে একজন অসহায় অজ্ঞাত কিশোরের বিপদের খবর পেয়ে থেমে থাকেন নি ওসি আবদুর রকিব। দাঁড়িয়েছেন ওই কিশোরের পাশে। করেছেন চিকিৎসার ব্যবস্থা। খুঁজে বের করেছেন ওই কিশোরের পরিবারকে।


পুলিশের দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায়ে ওইদিন রাতে ডিউটি করার সময় ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকায় কালির বাজার চো রাস্তার উপর একজন মানুষের লাশ পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশ সাথে সাথে ওই স্থানে গিয়ে দেখে অজ্ঞাত কিশোর এখনো বেচে আছে। তার স্মৃতি শক্তি নেই। তখন থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই কিশোরের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।


রবিবার বিকেলে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানা যায়, ওই কিশোর ফরিদগঞ্জ উপজেলার মানিকরাজ গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ীর মো. মনির হোসেন-এর বড় ছেলে হাবিবুর রহমান (১৭)। পুলিশের সার্বিক সহযোগিতায় তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে। হাবিব-এর রোগ এখনো সনাক্ত হয়নি। তাকে পুরোপুরি সুস্থ করতে হলে হাবিব-এর উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।
এ প্রতিনিধির সাথে আলাপ চারিতায় ওসি আবদুর রকিব বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। যেসব বৃত্তবানদের সামর্থ আছে, তাদের ঘুমন্ত মানবতা জেগে উঠবে এটা আমার বিশ্বাস। পুলিশের কর্তব্য জনগণের সেবা করা, জনগণকে ভালবাসা, দুর্দিনে জনগণকে সাহায্য করা।
তিনি আরো বলেন, আমি জানতে পেরেছি উদ্ধারকৃত কিশোর হাবিব-এর বাবা একজন কৃষক। তার অবস্থার পরিপূর্ণ উন্নতি করতে হলে সমাজের বৃত্তবানগণ তাদের পাশে দাড়িয়ে মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত দেখাবেন বলে আমি মনে করি।