৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  রাত ৯:৩০  ৪ঠা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
২২শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

যমুনার পানি বিপৎসীমার উপরে, সিরাজগঞ্জের সাধারন মানুষ দুর্ভোগ চরমে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে কাজিপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ও সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষার হার্ট পয়েন্ট এলাকায় বিপৎসীমার ছয় সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, যমুনার পানি দ্রুত বাড়ায় জেলার কাজিপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর ও তাড়াশ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে ফসল, গ্রামীণ সড়ক। ঘর-বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় দুর্ভোগে পড়েছে জনগণ।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এ কে এম রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুনের প্রথম থেকেই যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুর পয়েন্টে বাড়তে শুরু করে। গত ২৮ জুন উভয় পয়েন্টেই বিপৎসীমা অতিক্রম করে। এরপর ৪ জুলাই থেকে আবার কমতে শুরু করে এবং ৬ জুলাই বিপৎসীমার নিচে নেমে যায় যমুনার পানি। ৯ জুলাইয়ের পর ফের বাড়তে থাকে এবং ১৩ জুলাই দ্বিতীয় দফায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে। এরমধ্যে কয়েক দফায় যমুনার পানি কমতে ও বাড়তে থাকলেও বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে গত ১ অক্টোবর আবারও বিপৎসীমা অতিক্রম করে।

সদর উপজেলার মেছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, আমার ইউনিয়নের ছয়টি ওয়ার্ডের মানুষের বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকেছে। তাদের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা চেয়ে তালিকা পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে যমুনার পানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কাজিপুর পয়েন্টে পাঁচ সেন্টিমিটার ও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ছয় সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে পানি বাড়লেও আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পানি স্থিতিশীল হতে পারে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, বন্যায় জেলার ছয়টি উপজেলার বন্যাকবলিত মানুষদের মাঝে শুকনো খাবারের প্যাকেট দেয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি বরাদ্দের ত্রাণ ও নগদ টাকা রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ত্রাণ ও টাকা বিতরণ করা হবে।