১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  রাত ১:৪৩  ২০শে জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী
১লা আগস্ট, ২০২১ ইং

ফরিদগঞ্জে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তৈরী করলেন কীর্তনখোলা লঞ্চ!

গাজী মমিন, ফরিদগঞ্জ:
ফরিদগঞ্জে প্রত্যান্ত অঞ্চলের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর এক মেধাবী শিশু। নিজের হাতে বিশাল আকারে লঞ্চ তৈরী করে তাক লাগিয়ে দিলো এলাকাবাসীকে। প্রতিদিনই এ লঞ্চটি দেখতে এলাকার মানুষ ভীড় করতে দেখা যায়। তৈরী করা লঞ্চটির নাম দিয়েছে সে কীর্তনখোলা-১০।
বাবার সাথে একবার নদীপথে কীর্তনখোলা লঞ্চে বরিশাল যাতায়াত করে সাইদুল ইসলাম মেরাজ। এরপর থেকেই সে লঞ্চ নির্মানের আগ্রহ প্রকাশ করে। একপর্যায়ে বাবার অনুপ্রেরনায় ও সহযোগীতায় নিজের মেধা খাটিয়ে ককসিট, মোটর, লাইটিং ও ব্যাটারী দিয়ে নিজের হাতে কারুকাজ করে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থকে বরিশাল রুটে চলাচলকারী কীর্তনখোলা-১০ এর মতো একটি লঞ্চ তৈরী করে শিশুটি।
মাত্র ১১ বছর বয়সে শিশুটি ককসিটে তৈরী করা ঢাকা – বরিশাল রুটে চলাচল কারী কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের আদলে লঞ্চটি তৈরীকরে, এলাকাবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে শিশু মেহরাজ।
এ শিশুর পুরো নাম- সাইদুল ইসলাম মেহরাজ, গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ০৬ নং গুপ্টি ইউনিয়নের ষোলদানা গ্রামের সোহেল রানার বড় ছেলে সে। বর্তমানে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পড়াশোনা করছে, তার প্রখর মেধা ও পারদর্শীতা নজর কেড়েছে এলাকাবাসীর।

সাইদুল ইসলাম মেহরাজ কে লঞ্চ তৈরি করার উপাদান সম্পর্কে জানতে চাইলে সে জানায়, সে লঞ্চ তৈরী করতে ককসিট, ব্যাটারি চালিত মোটর, ম্যাজিক লাইট, এবং গাম ব্যবহার করে, লঞ্চের দৈর্ঘ-৩০ ইঞ্চি উচ্চতা-৯ ইঞ্চি, প্রস্ত -৭ ইঞ্চি, এটি দেখতে অভিকল কীর্তনখোলা – ১০ এর মতো।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যাটারী চালিত এ লঞ্চটি ওই শিশুর নিজ বাড়ীর পুকুরে চলমান। এছাড়াও দেখা যায়, লঞ্চটিতে ব্যবহার করা বিভিন্ন আলোকসজ্জা ও মিউজিক বাতির ঝলকানি মিট মিট করছে। নিখুত হাতে তৈরীকরা লঞ্চটির বিতরে রয়েছে মাষ্টার ও যাত্রীদের কেবিন-এর সৌন্দর্য সবার নজড় কেড়েছে।
এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার ওয়ার্ডে একটি শিশু লঞ্চ তৈরী করেছে শুনে মানুষ দেখে এসে প্রসংশা করে করে শিশুটির। তাই আমিও দেখতে এসেছি সত্যি শিশুর প্রতিভা দেখে আমিসহ এলাকার অনেকেই মুগ্ধ।
সাইদুল ইসলাম মেহরাজ জানায়, যে কোনো কিছু দেখে খুব সহজেই আয়ত্ত করে নিতে পারে সে। তার ভালো লাগে নতুন কিছু করতে, লঞ্চ তৈরী করা তার সবচেয়ে ভাল সখের মধ্যে একটি। এর আগেও সে একই কায়দায় একটি উড়ো জাহাজ তৈরী করে তা উড়িয়েছে বলে জানিয়েছে।

শিশুটির ভবিষ্যৎ ইচ্ছে সম্পর্কে জানতে চাইলে সে জানায়,আমি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই।

শিশুটির বাবার সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার পরিবারে তিন সন্তানের মধ্যে মেহরাজ আমার বড় ছেলে। সে আমার সাথে নদীপথে গিয়ে ছিলো। লঞ্চ দেখে আমার কাছে জানতে চায় লঞ্চ কে বানায় বিভিন্ন কৌতুহলী প্রশ্ন আমাকে করে সে। আমি সাধ্যমত উত্তর দিয়েছি। এরকয়েকদিন পরথেকেই দেখি ককসিট দিয়ে উড়ো জাহাজ, লঞ্চ তৈরীতে ব্যস্ত দেখা যায় তাকে। আমিও এইসব দেখে তার আগ্রহে সাড়াদেই। মেহরাজ জেন ভবিষ্যতে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হয়ে দেশের জন্য ভলো কিছু করতে পারে আমি সকলের দোয়া কামনা করছি।