১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  রাত ২:০৯  ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

কাউন্সিলর পদে ফুটবলার জাকির হোসেন গাজীর সামনে হ্যাট্টিক চান্স

বিশেষ প্রতিনিধি :

এক সময় ফরিদগঞ্জে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো আলমগীর হায়দার খাঁন গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট। টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলায় ফরিদগঞ্জ পৌর একাদশের গোলকিপার জাকির হোসেন গাজী অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। অপরদিকে, প্রতিপক্ষ দলে ছিলেন নাইজেরিয়ান ৯জন খেলোয়ার সহ দেশ সেরা ফুটবলার কাঞ্চন ও গোলরক্ষক আমিনুল। ওই খেলায় জাকির হোসেন গাজীর চমৎকার নৈপুণ্যে জয় পায় ফরিদগঞ্জ পৌর একাদশ। ফাইনাল খেলায় সেরা গোলকিপারের পুরস্কার জিতেন জাকির হোসেন গাজী। চ্যাম্পিয়ন ট্রপিও উঠে তার নেতৃত্বাধীন ফরিদগঞ্জ পৌর একাদশের হাতে।

টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলার অতিথি কায়াসার হামিদের পরামর্শে পরবর্তীতে তিনি রাজধানী ঢাকায় মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবে প্রশিক্ষণ শেষে জাতীয় পর্যায়ে দুটি ক্লাবে খেলার সুযোগ পান। কিন্তু, অসুস্থতা জনিত কারণে জাকির হোসেন গাজীর জাতীয় পর্যায়ে আর খেলা হয়নি।

তবে, ফরিদগঞ্জে ফুটবল প্রেমীদের কাছে জাকির হোসেন গাজী অত্যন্ত পরিচিত একটি নামে পরিণত হন। খেলার মাঠে গোলকিপার হিসাবে দায়িত্ব পালন করতেন। প্রতিপক্ষ যেন বল জালে জড়াতে না পারে সেজন্য তিনি থাকতেন সদা প্রস্তুত। মাঠে নান্দনিক ফুটবল খেলা উপহার দিয়ে অসংখ্যবার পেয়েছিলেন ম্যাচ সেরা ও সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার।

ফুটবল মাঠে সফল সেই জাকির হোসেন গাজী রাজনীতিতেও সফল। ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ২০১০ ও ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পৌর সদর ৮নং ওয়ার্ডে পর পর দুই বার কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত হয়ে চমক সৃষ্টি করেন তিনি। জাকির হোসেন গাজীর সামনে রয়েছে আগামী পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ৩য়বারের মত বিজয়ী হয়ে হ্যাট্টিক করার সুবর্ণ সুযোগ। অবশ্য পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতার জন্য ইতোমধ্যে তিনি প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ভোটারদের মতে জনপ্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্বশীল ভূমিকার কারনে তার জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি

পৌরসভা সূত্র জানায়, ফুটবলার জাকির হোসেন গাজী ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। ওই নির্বাচনে তিনি ৪৯৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অরুন পাল পেয়েছিলেন ৪৪৫ ভোট। নির্বাচিত হওয়ার পর কাউন্সিলরদের সমর্থন নিয়ে তিনি প্যানেল মেয়র-১ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে, ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাকির হোসেন গাজী উটপাখি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। ওই নির্বাচনে তিনি ৮৬৫ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উৎপল সাহা পান ৪১৬ ভোট। ২০১০ সালে ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে বিজয়ী কাউন্সিলরদের মধ্যে জাকির হোসেন গাজীই শুধুমাত্র পরবর্তী ২০১৫ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেন। দুটি নির্বাচনেই ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসাবে জাকির হোসেন গাজীকে বেঁচে নেয় ভোটাররা।

পৌরবাসীর কাছে জনপ্রিয় জাকির হোসেন গাজীর এ জনপ্রিয়তার রহস্য কি? কেনই বা ৮নং ওয়ার্ডের ভোটাররা তাকে বার বার বেচে নিচ্ছে। এসকল প্রশ্নের উত্তর জানতে কথা হয় জাকির হোসেন গাজীর সাথে। তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, ভাল কাজই একজন জনপ্রতিনিধিকে ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে। আর আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার রহস্যও একটাই জনগণের দেওয়া দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা। আমার নির্বাচনী এলাকায় ৮নং ওয়ার্ডের জনগন যে যখন ডেকেছে, তখনই ফেরিওয়ালার মত বাড়ি বাড়ি গিয়েছি। জনগণ আমাকে যখনই ডেকেছে তখনই কাছে পেয়েছে। আর প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর ওয়ার্ডের প্রায় সকল বাড়ির কাঁচা রাস্তা ইট দিয়ে সলিং করা হয়। যাতে করে জনগণ কাঁদা থেকে রক্ষা পায়। এছাড়া আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তায় অধিকাংশ বাড়িতে স্থাপন করা হয় গভীর নলকূপ। ফরিদগঞ্জ এ.আর. পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বাসস্ট্যান্ড হয়ে মধ্য বাজারের সিটি মার্কেট পর্যন্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য পাকা ড্রেন নির্মান করা হয়।

পরবর্তীতে, ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয় লাভের পর মেয়রের আন্তরিক সহযোগীতায় পূর্বে সলিং দ্বারা উন্নয়ন করা অধিকাংশ রাস্তাই সিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে পাকা করা সম্ভব্য হয়। এছাড়া, উপজেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরিদগঞ্জ বাজারের প্রধান সড়কের টিএন্ডটি থেকে ভূমি অফিস পর্যন্ত আরসিসি ঢালাই দ্বারা উন্নয়ন করা হয়েছে। ফরিদগঞ্জ বাজারের পিচ গলির রাস্তাটি আরসিসি ঢালাই দ্বারা উন্নয়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে উন্নয়ন কাজ শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে।

অপরএক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমার জেঠা মৃত সুলতান গাজী ১৩ নং ফরিদগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন (বর্তমান ফরিদগঞ্জ পৌরসভা) ৩ বারের নির্বাচিত মেম্বার ছিলেন। সুলতান গাজীর ছেলে আমার ভগ্নিপতি আবুল হোসেনও এ ওয়ার্ডে দুইবারের নির্বাচিত মেম্বার ছিলেন। পারিবারিক ঐতিহ্য ও আমার বাবার কাছে দেওয়া কথা রক্ষা করাই আমার লক্ষ্য। আমার বাবার আত্মা যেন কষ্ট না পায় আমি সেই বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রেখে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। অতীতে আমি আমার ওয়ার্ডের জনগণের পাশে ছিলাম। এখনো আছি। ভবিষ্যতেও থাকব, ইনশাআল্লাহ।