১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  দুপুর ১২:৫৬  ১৩ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী
২৯শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ডিগ্রী অর্জন করে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে যুবকদের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

০১ নভেম্বর (রোববার) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস-২০২০ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

যুবকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একটা ডিগ্রী নিয়েই চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে কিভাবে কিছু করা যায়, নিজে কাজ করবো আরো দশজনকে চাকরি দেব, নিজে উদ্যোক্তা হবো, নিজেই বস হবো- এই কথাটা মাথায় রাখতে হবে। আমার মধ্যে সেই শক্তিটা আছে। সেই শক্তিটা আমি কাজে লাগাবো- এই চিন্তাটা আমাদের যুবকদের মাথায় যেন থাকে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তো বৃদ্ধ হয়ে গেছি, আমাদের তো সময় শেষ। কিন্তু যুবকরাই তো আসলে দেশের প্রাণ সঞ্চার করবে। কাজেই সেইভাবে আমাদের তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে যাক এবং দেশকে এগিয়ে নেবে সেটাই চাই। এই বয়সটাই হচ্ছে কাজের বয়স, চিন্তার বয়স, মেধা বিকাশের বয়স।

আওয়ামী লীগ সরকার কর্মসংস্থানের দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকে যারা যুবক আগামী দিনে তারাই দেশের কর্ণধার হবে। আজকে যে শিশুটা জন্ম নিল, তার ভবিষ্যতটা যেন উন্নত হয়, সেই বিষয়টা চিন্তা করেই আমাদের এই সমস্ত পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি। এক্ষেত্রে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

ফ্রিল্যান্সারদের স্বীকৃতি দিতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেটা নিয়েও আমরা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে আমাদের আইসিটি মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে, আমাদের যুব মন্ত্রণালয়ও। যেন যারা এ ধরণের ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করবে তারা যেন একটা স্বীকৃতি পায়। তারা সনদ পায় বা একটা সার্টিফিকেট তাদের হাতে থাকে। তারা যে একটা কাজ করছে এবং কাজ করে তারা যে অর্থ উপার্জন করছে, এইটাও একটা কাজ।

শেখ হাসিনা বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের একটা অসুবিধা আছে সেটা আমি জানি। যেহেতু এখানে কোনো রেজিস্ট্রেশন করতে হচ্ছে না, সার্টিফিকেট নাই। স্বীকৃতি নাই। অনেক সময় অনেকে জিজ্ঞেস করে আপনি কি করেন, যদি বলে ফ্রিল্যান্সার অনেকেই বুঝতেই পারে না ব্যাপারটা কী। কেউ হয়তো এটার স্বীকৃতি দেয় না।

তিনি বলেন, আমার কাছে এমনও অভিযোগ এসেছে যে বিয়ের বাজারেও যদি বাবা বিয়ে ঠিক করতে গিয়ে বলে ছেলে কি করে? ফ্রিল্যান্সার শুনে বলে সেটা আবার কি? এখানে আমি মেয়ে দেবো কেন? সেটাও একটা সমস্যায় পড়তে হয়। কারো হয়তো নিজেরা ফ্রিল্যান্সিং করেছে, ছেলেমেয়ে আছে। স্কুলে ভর্তি করতে নিয়ে গেছে, ভর্তি করবে না স্কুল। ভালো স্কুল। কেন? আপনি কি ইনকাম করেন তার তো কোনো নিশ্চয়তা নাই। হয়তো দুই লাখ-তিন লাখ টাকা আয় করছে। কিন্তু তার এমন কোনো স্বীকৃতি নাই, তার ছেলে-মেয়েকে ভর্তি করতে চায় না। সে ধরনের অভিযোগও এসেছে।

এ সময় গণভবন প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

ভিডিও কনফারেন্সে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রান্ত হতে গণভবনে সংযুক্ত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের সচিব মো.আখতার হোসেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আখতারুজ জামান খান কবির প্রমুখ।