১৩ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  রাত ৩:০৩  ১২ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী
২৭শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

‘আল্লাহর রহমত এবং মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় যেনো পুনর্জীবন লাভ করেছি’ অ্যাড:রোমান

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডঃ জাহিদুল ইসলাম রোমান কোভিড-১৯ ভাইরাসে (করোনায়) আক্রান্ত হয়ে কয়েকদিন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন। কোনো কোনো দিন তাঁর কাছে এমন মনে হয়েছে যে, এই মুহূর্তটিই তার জীবনের সর্বশেষ মুহূর্ত। তাকে এই পৃথিবী ছেড়ে হয়ত চলে যেতে হবে। তিনি পরপারের জন্যে মানসিকভাবে প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছেন।

আর ওই সময়ে তার চোখের পানিতে বালিশ ভিজেছে। অঝোরে কান্নায় চোখের জলকে টিস্যু পেপারও দমাতে পারেনি। আর এ কান্না অন্য কোনো চিন্তা বা অব্যক্ত যন্ত্রণায় নয়, মারা গেলে নিষ্পাপ সন্তান দুটি আর তাদের মাকে কে দেখবে?

সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিড ইউনিটের কেবিনে শুয়ে শুধু এসব ভেবে চোখের পানি ফেলেছে এবং যিনি বাঁচানোর মালিক সেই মহান ¯্রষ্টার কাছে দু হাত তুলে শুধু প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছে, তাঁর রহমত কামনা করেছে।

রোমানের অবস্থাটা তখন শোচনীয় পর্যায়েই ছিলো। হাই ফ্লো অক্সিজেন ১৫ লিটার করে দেয়ার পর অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতো। আর হাই ফ্লো ছাড়া সিলিন্ডার অক্সিজেনে মাত্রা থাকতো ৬০/৬৫। চব্বিশ ঘণ্টা অক্সিজেন এমনকি বাথরুমে যেতেও অক্সিজেন দেয়া অবস্থায় থাকতে হতো।

রোমান বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার কয়েকদিনের মাথায় তার ভেতর থেকে ভাইরাসটি চলে গেছে। অর্থাৎ পরীক্ষায় তার করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। কিন্তু তখনও তার অবস্থা অপরিবর্তিত। তেমন কোনো উন্নতি তো হচ্ছেই না, বরং কোনো কোনো দিন অবস্থা অবনতির দিকে চলে যেতো।

তার কারণ হচ্ছে, রোমানের দুটি ফুসফুসেই ভাইরাসটি আক্রমণ করে ফেলেছে। চাঁদপুরে তার প্রথম সিটি স্ক্যান রিপোর্টে ধরা পড়ে দুই ফুসফুসেই ১৫% করে আক্রান্ত। আর ঢাকা যাওয়ার পর এটি বেড়ে ৬০% এ গিয়ে পৌঁছে। এ অবস্থা থেকে রোগীকে উদ্ধার করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিড ইউনিটের সর্বোচ্চ পর্যায়ের চিকিৎসকরা একের পর এক মেডিকেল বোর্ড ও নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে থাকে।

তখন ওইসব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ভাষ্য ছিলো এমন-কোভিডের বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা ওনার চলছে। তবে অবস্থা যতোই শোচনীয় হোক, চিকিৎসকরা আশাবাদী ছিলেন রোগী সেরে উঠবেন এবং সময় লাগবে। আর এই উন্নত চিকিৎসা পাওয়াটা শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং সার্বক্ষণিক তদারকির দ্বারাই সম্ভব হয়েছে বলে রোমান বেশ দৃঢ়তার সাথে বলেন। শুধু চিকিৎসাই নয়, বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি এবং সাথে সাথেই কেবিন পাওয়াটাও শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি আপা এবং ডাঃ জেআর ওয়াদুদ টিপু ভাইয়ের প্রচেষ্টা ও অবদান ছিলো বলে রোমান কৃতজ্ঞতার সাথে তাঁদের স্মরণ করেন। এছাড়া টিপু ভাই সার্বক্ষণিক খোঁজখবরও নিয়েছেন।

জাহিদুল ইসলাম রোমান কিছুটা সুস্থ হয়ে ঢাকা থেকে চাঁদপুর আসার পর বাসায়ই পূর্ণ বিশ্রামে আছেন। গত কদিন আগে বাসায় গিয়ে তাঁর সাথে দীর্ঘক্ষণ একান্ত আলাপচারিতায় তাঁর অসুস্থতা এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত এসব তথ্য জানা গেলো।

এদিকে রোমান অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্যে ঢাকা যেদিন চলে যান, সেদিন থেকেই চাঁদপুর সদর, ফরিদগঞ্জ, হাইমচরসহ পুরো জেলায় তাঁর রোগমুক্তি কামনা করে একের পর এক দোয়া মিলাদ হতে থাকে। কঠিন রোগব্যাধি থেকেও মুক্তি লাভের যেসব দোয়া, কালাম, দরূদ ও খতম রয়েছে সবকিছু ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে জাহিদুল ইসলাম রোমানের জন্যে।

ফরিদগঞ্জ ও চাঁদপুরের বিভিন্ন পীর-মাশায়েখের দরবার যেমন সন্তোষপুর দরবার শরীফ, ঘনিয়া দরবার শরীফ, চান্দ্রা দরবার শরীফ, গাছতলা দরবার শরীফসহ আরো অনেক দরবার শরীফের পীর সাহেবগণ রোমানের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ দোয়া করেন। আরো দোয়া করেন ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. একেএম মাহবুবুর রহমান।

এছাড়া দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ছাড়াও অসংখ্য সাধারণ মানুষ বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় অনেক দোয়া করেছেন রোমানের সুস্থতার জন্যে। তাই তো রোমানের এখন অভিব্যক্তি হচ্ছেÑআল্লাহর রহমত এবং সাধারণ মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় যেনো পুনর্জীবন লাভ করলাম। রোমান বেশ দৃঢ়তার সাথে বলেন, দীর্ঘ এই রাজনৈতিক জীবনে আমার দ্বারা কারো কোনো ক্ষতি বা অমঙ্গল হয়নি। আমি সবসময় নির্যাতিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। অনেক অসহায় মানুষ আমার সরাসরি হস্তক্ষেপে দুর্বৃত্তদের হাত থেকে রেহাই পেয়েছেন। আর যাদের জন্যে করেছি, নিঃস্বার্থভাবে করেছি, কোনো কিছুর বিনিময়ে নয়। সেই মানুষগুলোই আমার জন্যে প্রাণ খুলে দোয়া করেছে, অনেকে নফল রোজাও রেখেছে। তাঁদের এবং হক্কানি পীর-মাশায়েখদের দোয়াই আল্লাহ আমাকে মৃত্যুমুখ থেকে বাঁচিয়ে এনেছেন। আমি এই মানুষগুলোর কাছে চির ঋণী হয়ে গেলাম।

রোমান কয়েকজন মানুষের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের ডাঃ সমরেশ, ডাঃ আরাফাত সানি, ডাঃ মোর্শেদ, ডাঃ নাজমুল ও আড়াইশ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডাঃ সিরাজুম মুনীর। আর শহর ছাত্রলীগ নেতা নিবিড় আহমেদ এবং বিষ্ণুপুরের ছাত্রলীগ নেতা জিয়ার প্রতি তো তার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

রোমান বলেছেনও, নিবিড় যদি আমাকে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ঢাকা নিয়ে না যেতো, তাহলে হয়তো আমাকে বাঁচানো যেতো না। চাঁদপুর থাকলে ওই রাতেই হয়তো কোনো একটা দুর্ঘটনা ঘটে যেতো। আল্লাহ এভাবেই কারো না কারো উছিলায় তাঁর বান্দাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করেন।

উল্লেখ্য, জাহিদুল ইসলাম রোমান পূর্ণ সুস্থ হয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে অনেকদিন বিশ্রাম এবং চিকিৎসাধীন থাকতে হবে। তিনি সকলের কাছে আরো দোয়া চেয়েছেন আল্লাহ যেনো তাঁকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থ করে দেন, যাতে জনগণের প্রতিনিধি দ্রুত জনগণের কাছে যেতে পারেন।