১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  ভোর ৫:০৪  ২২শে জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী
৩রা আগস্ট, ২০২১ ইং

কেমন মেয়র চায় ফরিদগঞ্জ পৌরবাসী?

আলী ভাইয়ের চরিত্র, ফুলের মতো পবিত্র, পৌরসভার মাটি আলী (ছদ্মনাম) ভাইয়ের ঘাটি” এরকম শতক স্লোগানে মুখরিত আশেপাশের পরিবেশ। আসছে ১৪ ফেব্রুয়ারী ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন। প্রায় অর্ধ ডজন মেয়র আর ৭৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর সরগরমে চাঙ্গা এবারের নির্বাচনটি। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌরসভা ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা পাওয়া পৌরসভাটির ৩য় নির্বাচন এটি।

নির্বাচিত হওয়ার পরবর্তীতে পাঁচ বছরের মধ্যে ভোটাররা কাংখিত সেবা না পেলেও মেয়র আর কাউন্সিলর প্রার্থীদের আসা যাওয়াটা ভোটারের বাড়িতেই এখন নৃত্য রুটিনে রুপ নিয়েছে।

৯টি ওয়ার্ডের ৩১ হাজার ভোটারদের মনজয় করার এই যুদ্ধটা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারীর মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী কেউ একজন নির্বাচিত হবেনই৷ আগামী পাঁচ বছর পৌরপিতার চেয়ারে কাকে বসাবেন ফরিদগঞ্জের মানুষের কাছে সেটাই এখন ভাবনার বিষয়।

প্রায় ৩৮ হাজার মানুষের বসবাস করা একটা পৌরসভা ফরিদগঞ্জ। দেশের অন্যান্য পৌরসভার মতো এতো জনবহুল এলাকা নয় এটি। তারপরও অন্য পৌরসভা থেকে জীবনমান, অবকাঠামো উন্নয়ন আর রাস্তাঘাটের দিকে তাকালে ফরিদগঞ্জ পৌরসভাটি যেকারো বিচারে পিছিয়েই থাকবে। গোটাকয়েক মানুষের অবহেলা আর অযত্নের ফলে পৌরসভার কাংখিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পৌরবাসী।

১৯ বর্গ কিলোমিটারের ফরিদগঞ্জ পৌরসভার দিকে তাকালে যেকাউকে কেবল হতাশই হতে হবে। প্রতিষ্ঠার প্রায় দেড় যুগ হয়ে গেলেও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় নিজেকে এখনও দাঁড় করাতে না পারাটা এখানকার মানুষের জন্য দুঃখজনক, লজ্জাজনক। তাই আসছে ১৪ তারিখ কাকে ভোট দিবেন, সেই ভাবনাটা আরো তীব্রভাবেই ভাবতে হবে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ভোটারদের।

পৌরসভা হওয়ার প্রায় দেড় যুগ হয়ে গেলেও এখনও ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় বিনোদনের কোন জায়গা তৈরি হয়নি। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা খানিকটা সময় দৌড়াদৌড়ি করবেন, এরকম একটা শান্তিময় জায়গা একটা পৌরসভায় কি দরকার নেই? খেলাধুলার জন্য নেই পর্যাপ্ত মাঠ। যেটা সন্তানের সুষ্ঠুভাবে বিকাশের ক্ষেত্রকে বাঁধার সৃষ্টি করে। পৌরসভার ভিতর দিয়ে বয়ে চলা নদী-খাল গুলো দখল হয়ে বিলুপ্তির পথে, নদী-খাল গুলোকে দখল ও দূষনমুক্ত করতে হবে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা আর রাস্তার পাশে থাকা ড্রেনগুলোর অবস্থা আরো নাজেহাল, ড্রেনগুলো আবর্জনায় ভরে গেছে, ফলে এগুলো দিয়ে ঠিকভাবে পানি নিষ্কাশন হয় না, যেকারণে অল্প বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে জলাবদ্ধতার জন্ম দেয়। সেই সাথে রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কথা তো সবারই জানা। নির্বাচিত মেয়রকে এই বিষয়গুলো সমাধানের জন্য নতুন করে ভাবতে হবে। আর এর জন্যই দরকার জনসেবা করার মতো মানসিকতা সম্পন্ন মেয়র। যিনি নিজেকে শাসক না ভেবে জনগণের সেবক মনে করবেন। ভোটারদের ভাবনা গুলো নিজের মনে জায়গা দিবেন। একটা মানুষ যখন কোন বিষয় ভিতর থেকে অনুভব করে কেবল তখনই তার দ্বারা ভাল কিছুর আশা করা যায়৷ তাই পৌরসভার সমস্যাগুলো ভেতর থেকে অনুভব করেন এমন কাউকেই পৌরপিতার চেয়ারটি দেওয়া উচিত।

এছাড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের একাধিক ভোটারদের সাথে কথা হলে তারা জানান, এ পৌর এলাকায় কোন ডাস্টবিন নেই, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। সেগুলো সময়মতো পরিষ্কার করা হয় না। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পৌর এলাকা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পরিণত হবে। পৌর এলাকার এসব সমস্যার সমাধানে যোগ্য ব্যক্তিকেই মেয়র হিসেবে দেখতে চায় তারা। পৌর এলাকার যুবকদের বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য যুব প্রশিক্ষণকেন্দ্র, সংস্কৃতি চর্চার জন অডিটরিয়াম, খেলাধূলার জন্য যুবকদের উৎসাহিত করতে পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। ফরিদগঞ্জ বাজার, পৌর এলাকার মূল সড়কের দুপাশ দখলমুক্ত করে জনসাধারণের জন্য স্বাভাবিক ফুটপথ তৈরী, বিশুদ্ধ পানি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নদী-খাল দখল মুক্ত এবং দূষন মুক্ত করনে পৌরসভার উদ্যেগ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। ভোটাররা মনে করেন যোগ্য মেয়র নির্বাচিত করতে পারলে এসকল সমস্যা সামাধান ও পৌরবাসীকে সাথে নিয়ে মেয়র সমন্বিত উদ্যেগে গ্রহণ করলেই কেবল জন সাধারণের আশা আকাংখার প্রতিফলন ঘটানো যাবে।

উল্লেখ্য, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের পৌর শাসন মেয়াদ শেষ হওয়ায় আগামী ১৪-ফেব্রুয়ারী-২১ পৌরসভার সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনেও মত ঐক্য সৃষ্টিতে পৌর এলাকার ভোটারদের মাঝে নানা জল্পনা কল্পনা ও আলাপ-আলোচনা করতে দেখা গেছে।