৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  দুপুর ২:২৩  ৫ই শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরী
১৮ই মে, ২০২১ ইং

সমাজ সেবায় অনন্য উদাহরণ ফরিদগঞ্জের কৃতি সন্তান শিল্পপতি জালাল আহমেদ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ফরিদগঞ্জের কৃতি সন্তান, কাতারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিআইপি জালাল আহমেদ (৫৫) এবার গৃহহীন গরিব ও অসহায়দের থাকার জন্য বসত ঘর নির্মান করে দিচ্ছেন। এর আগে প্রচার বিমূখ শিল্পপতি জালাল তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে গরিব ও অসহায়দের জন্য রিক্সা, ভ্যান ও বসত ঘরের জন্য প্রায় ৬ হাজার বান উন্নত মানের ঢেউ টিন ও বিতরন করেছেন সাদামাট মানুষ শিল্পপতি জালাল আহমেদ। চাল চলনেও নেই কোন হাঁক ডাক। ফরিদগঞ্জের গরিব ও অসহায়দের স্বার্থে তার নিজের অর্থ ব্যয় করে দৃশ্যমান উন্নয়ন মূলক কাজগুলো সমাজে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে যুগের পর যুগ। উপজেলার সর্বত্র এমনটাই মনে করছেন অনেকেই।

নিরংকারী ও উদার মানুসিকতা সম্পন্ন এই জালাল আহমেদের বাড়ি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বড়ালী গ্রামে। কাতারে তার কঠোর পরিশ্রম ও সততার গুনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সেই দেশের নাগরিকত্ব লাভ করেই ক্ষান্ত হয়নি। চালচলনে তার নেই কোন ফুটানি। একবারেই সাদামাটা মানুষ। খুব সহজেই সকল শ্রেনী-পেশা মানুষের সাথে মিশে যান তিনি। বাংলাদেশে শিল্পকারখানা গড়ে তুলে দেশের সর্ব্বোচ্চ করদাতা হিসেবে সিআইপি মর্যাদাও লাভ করেছেন।

বিশিষ্ট শিল্পপতি জালাল আহমেদ কারো কাছে তিনি গরিবের বন্ধু। আবার কারো কাছে দানবীর কিংবা সমাজ সেবকও বটে। বৈশ্যিক এই করোনা পরিস্থিতিতে মরুর দেশ কাতার ও নিজের উপজেলা ফরিদগঞ্জে বিভিন্ন অসহায় ও কর্মহীন মানুষদের মাঝে খাদ্যে সামগ্রী বিতরন করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন প্রচার বিমূখ জালাল আহমেদ।

পারিবারিক সুত্র জানায়, পৌর এলাকার পূর্ব বড়ালী গ্রামের প্রয়াত হাজী আব্দুর রশিদের ৭ ছেলে ২ মেয়ের মধ্যে জালাল আহমেদ ২য় সন্তান। তার বাবা ছিলেন সরকারি চাকুরী জীবি। অভাব আর অনটনের মধ্যে কষ্টে দিনযাপন করে জালাল আহমেদ ডিগ্রী পাশ করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে মরুর দেশ কাতারে পাড়ি জমায়। সে দেশে তার অক্লান্ত পরিশ্রম ও সততার বলে জালাল আহমেদ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়। এক পর্যায়ে কাতারে মার্বেল পাথরের ব্যবসা করার সুবাদে সেখানে শিল্পকারখানা গড়ে তোলেই ক্ষান্ত হয়নি। নিজের দেশ বাংলাদেশের খুলনা মংলা পোর্ট এলাকায়ও শিল্পকার খানা গড়ে তোলার সুবাদে জালালের প্রতিষ্ঠানে শতশত লোক চাকুরি করছেন। গরিবের জন্য তার অগাধ ভালবাসার নির্দশন হিসেবে বিভিন্ন সময় দান অনুদান দিয়ে সহযোগিতা করে আসছেন।

দেশে জালাল আহমেদের কার্যক্রমের একাংশ দেখাশুনার করা ব্যবসায়ী শফিকুর রহমান জানায়, পৌর এলাকা ও ১৫ ইউনিয়নের অসহায় ও গরিবদের জন্য জালাল আহমেদ ব্যক্তিগত অর্থায়নে বসত ঘর নির্মাণ কার্যক্রম চলছে। ইতিমধ্যে পৌর এলাকায় ১৫টি বসত ঘর নির্মান কাজ প্রায় শেষ। উপরে টিন দিয়ে ৩/৪ কক্ষ বিশিষ্ট ঘর নির্মানে প্রায় ৪/৫ লাখ টাকার মতো খরচ হচ্ছে।

৪ কক্ষ বিশিষ্ট নতুন ঘর পেয়ে আনন্দ আর উচ্ছাস প্রকাশ করে বড়ালী গ্রামের হতদরিদ্র মো. কবির হোসেন বলেন, গত রমজান মাসে আমাদের জালাল ভাই ঘুরতে ঘুরতে আমার বাড়ি এসে দেখেন আমার ঘর নেই, জরাজীর্ন একটি ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছি। এ দৃশ্য দেখে জালাল ভাই তার নিজস্ব টাকায় আমার জন্য ঘরটি নির্মান করে দিতে দায়িত্ব দেন তারই বড় বোন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজুদা বেগমকে।

জালাল আহমেদের ছোট ভাই ফরিদগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন সাবু জানান, আমার ভাইয়ের অর্থায়নে বিগত বছরগুলোতে অনেক অসহায়দের চিকিৎসা, বিয়ের খরচ সহ বিভিন্ন দান অনুদান দেয়া ছাড়াও প্রায় ৬ হাজার বান উন্নতমানের ঢেউটিন, ৩শ রিক্সা বিতরন করা ছাড়াও এখন পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়নে অসহায়দের মাথা গুজার ঠাঁই পেতে পর্যায়ক্রমে বসত ঘর নির্মান করে দেয়া হচ্ছে।

জালাল আহমেদের বড় বোন ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজুদা বেগম বলেন, সত্যিকার অর্থে আমরা গরিবের ঘরেই জন্ম নিয়ে এক সময়ে বহু কষ্ট দিনযাপন করতাম। তাই গরিবের কষ্ট আমার ভাই জালাল প্রতিমূহুর্তে হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করে বিধায় সে সব সময় অসহায় ও গরিবের স্বার্থে উদার মনেই সহযোগিতা করে আসছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, কে কোন দল করে তা কখনোই আমার ভাই বিবেচান না করে শুধু অসহায় ও গরিব মানুষের স্বার্থে গোপনে বিভিন্ন সহযোগিতা করে আসছে।

তবে এলাকাবাসী বলছেন, শিল্পপতি জালাল আহমেদের মতো দেশের সকল শিল্পপতি ও ধর্নাঢ্য ব্যক্তিরা অসহায় ও গরিবের স্বার্থে আন্তরিক হলে অসহায় মানুষ গুলো আর মানবেতর জীবন যাপন করতে হবে না।