২৬শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  বিকাল ৩:৩২  ২৬শে রমযান, ১৪৪২ হিজরী
৯ই মে, ২০২১ ইং

ফরিদগঞ্জে বোন ভগ্নিপতির অত্যাচারে ভাইয়ের পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন

নিজস্ব প্রতিেবদক:

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বোন-ভগ্নিপতির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে দুই ভাইয়ের পরিবার ।

সরজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের সাইসাঙ্গা গ্রামের মৃত- শহিদ উল্লার ছেলে জসিম উদ্দিন, স্ত্রী সাহানাজ আক্তার, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ফারিয়া বেগম ও জসিম উদ্দিনের ছেলেসহ বোন হোসনেআরা বেগম, ফাতেমা বেগম, সাহানাজ বেগম ও ভগ্নিপতি আমির হোসেন, সেফায়েত উল্লার অত্যাচারে অতিষ্ঠ বাবার ঘর ছেড়ে রান্নাঘরে অসহায়ের মতো জীবন যাপন করছে।

জসিম উদ্দিন জানায়, আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে আমার বোন ফাতেমা আক্তারকে পারিবারিক ভাবে বিবাহ দিয়েছিলাম, কিন্তু ভগ্নিপতির ও তার পরিবারের সাথে বনিবনা না হওয়ায় সেখান থেকে বিচ্ছেদ হয়ে যায়, পরবর্তীতে পূনরায় বিয়ে দেই, ভগ্নিপতি প্রবাসে থাকায় ফাতেমা আমাদের বাড়িতে বসবাস করে আসছে। কিন্তু অন্য বোন ও ভগ্নিপতির ষড়যন্ত্র এবং অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাবার বসত ঘর ছেড়ে রান্নাঘরে অসহায় জীবন যাপন করতে হচ্ছে। রান্না ঘরে বসবাস করেও প্রতিনিয়ত বোন ও ভগ্নিপতির দ্বারা মানষিক নির্যাতনের স্বীকার হতে হচ্ছে। আমার মাকে তারা জিম্মি করে রেখেছে, যেন সঠিক কথা উপস্থাপন না করতে পারে এবং আমার বয়োবৃদ্ধা মাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে মারধরের মিথ্যা নাটক সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন পত্রিকায় আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে আমার মান সন্মান নষ্ট করা চেষ্টা করেছে আমার বোন এবং ভগ্নিপতি।

তিনি আরো বলেন, গত তিন বছর পূর্বে আমার বাবা মারা যান, বাবা মারা যাওয়ার পূর্বে ব্রেন ষ্টোক করে সাত দিন ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যু বরন করেন, সেই সময় আমি বাবার চিকিৎসার সকল খরচ একাই বহন করি। বাবা মারা যাওয়ার পর মায়ের সকল কিছু আমরাই দেখাশুনা করি। কিন্তু আমার বোন ভগ্নিপতি মিলে তাদের ব্যক্তি স্বার্থ হাছিলের জন্য আমার মাকে ভূল বুঝিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।

এই বিষয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, জসিমের বোনদের কারনে প্রায় প্রতিনিয়ত ওই বাড়িতে ঝগড়াঝটি লেগেই থাকে এবং কিছু বলতে গেলে তারা আমাদের সঙ্গেও খারাপ আচরন করে তাই এখন আর আমরা কিছুই বলিনা।

এবিষয়ে জসিম উদ্দিনের স্ত্রী সাহানাজ বেগম বলেন, গত ৬ এপ্রিল আমার ছোট জাকে বললাম মায়ের ঘরে গিয়ে থাকতে, কারন আমার স্বামী দীর্ঘ ৯ বছর পর দেশে এসেছে একটি ছোট রান্না ঘরে আমি আমার জাকে নিয়ে থাকতে খুব লজ্জা লাগে। আমার শ^াশুড়ীকে বললাম জা ফারিয়া আপনার সাথে ঘুমাবে। এতে আমার শাশুড়ী রাজি হয়ে অনুমতি দিলে ফারিয়া মায়ের ঘরে বিছানার আসবাব পত্র ঠিক করতে গেলে আমার স্বামীর ছোট বোন ফাতেমা তাকে বাঁধা দেয় এবং তার বিছানার আসবাবপত্র বাহিরে পেলে দেয় অতপর গালমন্দ করতে থাকে। এসময় আমার শ^াশুড়ী, আমি ও আমার স্বামী পুকুর ঘাটে বসেছিলাম চিৎকার শুনে ঘরে গেলে ফাতেমা আমাকে কিছুই বলতে নিষেধ করেন এবং কি কারনে তার আসবাব পত্র পেলে দিয়েছে জানতে চাইলে ফাতেমা আমাকে মারা শুরু করে, আমি চিৎকার ছেচামেচি করলে আমার স্বামী ও শ^াশুড়ী এসে দেখে আমি মাটিতে পড়ে আছি।

ঘটনা সম্পর্কে ভগ্নিপতি সেফায়েত উল্ল্যা সদউত্তর না ধিয়ে এড়িয়ে যায়।

এ বিষয়ে বোন সাহানাজ বেগমকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি নয় বলে জানান।

এ বিষয়ে জসিমরে মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান এই বিষয়ে আমি কোন কিছুই জানি না আপনারা আমার মেয়ের জামাই আমির হোসেনের সাথে কথা বলেন।