৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  সকাল ৬:৪২  ১৭ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী
২৪শে অক্টোবর, ২০২১ ইং

ফরিদগঞ্জে চুরির অপবাধে নারীকে বেদঢ়ক মারধর

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে স্বর্ণের চেইন চুরির অপবাদ দিয়ে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীকে বেদঢ়ক পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হামলার শিকার নারীকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও কয়েকজন আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে এমন অমানবিক ঘটনা জেলা পুলিশ সুপারের নজরে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে নির্যাতিতা নারীর পাশে দাঁড়ানোর কথা জানান তিনি।

অন্যদিকে, ২৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতেই গুরুতর আহত ওই নারীকে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান স্বজনরা। তাকে বেদঢ়ক পেটানোর ফলে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মকভাবে ক্ষতের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পাশ থেকে মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক নারী ও এক যুবক আরেক নারীর হাত জড়িয়ে ধরেছেন। এর মধ্যে আরেক যুবক তাকে কাঠের গুঁড়ি দিয়ে বেদঢ়ক পেটাচ্ছেন। ২ মিনিটেরও বেশি ওই ফুটেজে এমন ঘটনার শেষের দিকে নির্যাতিতা নারীকে রক্ষায় কয়েকজন এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুপসা উত্তর ইউনিয়নের রুস্তমপুর গ্রামের আমিন উদ্দিনের বাড়িতে গত শুক্রবার বিকেলে এমন নির্মম ঘটনা ঘটে।

বৃদ্ধ আব্দুল মান্নানের সাত ছেলে, দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট তাসলিমা বেগম। আট বছর আগে বিয়ে হয় তার। কিন্তু স্বামী তাকে ছেড়ে যাওয়ার পর বাবার বাড়িতেই থাকেন তিনি। কয়েক মাস আগে প্রতিবেশী মোস্তফা মিয়ার ছেলে কাউসার আলমের স্ত্রীর গলার একটি স্বর্ণের চেইন হারিয়ে যায়। কিছুদিন আগে সেটি খুঁজে পেলেও এর জন্য দায়ী করা হয় একই বাড়ির স্বামী পরিত্যক্তা তাসলিমা বেগমকে।

নির্যাতিতা তাসলিমা বেগমের বড় বোন আমেনা বেগম জানান, এ জন্য তার ছোট বোনকে দায়ী করা হয়। আর এমন ঘটনার জের ধরেই কাউসার আলমের ছোট দুই ভাই ইয়াসিন ও মোফাচ্ছের এবং তাদের মা শামছুন্নাহার এমন পৈচাশিক নির্যাতন চালান তাসলিমা বেগমের ওপর।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী তাসলিমা বেগম জানান, বিনা কারণেই ঘর থেকে ডেকে নিয়ে বাড়ির উঠোনে তার ওপর এমন হামলা চালানো হয়। তিনি চুরির কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এমন পরিস্থিতিতে স্বজনরা ঘটনার বিচার দাবি করে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন। তবে ঘটনার পর থেকে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেওয়ায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এদিকে হাসপাতালে ভর্তির পর ঘটনার শিকার নারীর শারীরিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। তবে আপাতত শঙ্কামুক্ত। তাই আরও কয়েক দিন হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিতে হবে রোগীকে।

এমন তথ্য জানালেন সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা.মনিরুল ইসলাম। অন্যদিকে, রোববার দুপুরে নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান জেলা পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ। এ জন্য ফরিদগঞ্জ থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার ইদ্রিস মিয়া জানান, একটি স্বর্নের চেইন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মারামারির ঘটনাটি ঘটেছে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন বলেন, উক্ত মারামারীর বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি অভিযুক্তদের বিরুদ্বে ব্যবস্থা প্রক্রিয়াদিন রয়েছে।