৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  ভোর ৫:৩৪  ১৬ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী
২৪শে অক্টোবর, ২০২১ ইং

ফরিদগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা পিতার ভাতার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ছোট ভাইয়ের রডের আঘাতে মৃত্যুশয্যায় বড় ভাই

পরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা পিতার ভাতার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্ধে ছোট ভাই হুমায়ুন তালুকদারের রডের আঘাতে বড় ভাই ইদ্রিছ তালুকদার (৬০) গুরতর আহত হয়ে মৃত্যুর শয্যায় পাঞ্জা লড়ছেন। ২৩ বৃহস্পতিবার সেপ্টেম্বর উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের বালিথুবা গ্রামের তালুকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ইদ্রিছ তালুকদারের ছেলে আল-আমিন জানান, নয় বছর পূর্বে আমার দাদা বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ জয়নাল আবেদিন তালুকদার মৃত্যুবরণ করেন। দাদার মৃত্যুর পর আমার চাচা হুমায়ুন তালুকদার আমার বাবা ও ফুফুদের স্বাক্ষর জাল ও জাল সনদ তৈরি করে আমার দাদার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন করে একা আত্মসাৎ করে আসছে। অথচ আমার অসুস্থ দাদীর যাবতীয় দেখভাল আমার বাবা-মা করে আসছে। এ নিয়ে গত দুই মাস পূর্বে আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে দরখাস্ত করেন আমার চাচা যেনো ভাতার টাকা তুলতে না পারেন। পরে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার আমার ছোট চাচা হুমায়ুন আমার দাদীকে জোরকরে আমাদের ঘর থেকে বের করে নিয়ে যেতে চায় দাদার মুক্তিযোদ্ধার ভাতার টাকা তার নামে করে দেয়ার জন্যে। এতে আমার বাবা বাঁধা প্রদান করলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে রড দিয়ে আমার বাবাকে আঘাত করতে থাকে। এতে আমার বাবার মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকলে বাড়ির লোকজন আমার বাবাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে আমার বাবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

সে আরো জানায়, সে আমার বাবার উপর হামলা করেই তিনি ক্ষান্ত হয়নি। পরদিন বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে আমাদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে আমাদের ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। বর্তমানে আমারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্ততি নিচ্ছি।

আহত ইদ্রিছ তালুকদারের আরেক ছেলে টিটু জানায়, বিগত কয়েক বছর পূর্বে আমার চাচা হুমায়ুন তালুকদারের ঘর থেকে আমার বোন সিমা সামান্য হরলিক্স খাওয়ার কারণে সে আমার বোনকে অনেক মারধর করে, আমার বোন যা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। এ বিষয়ে হুমায়ুন তালুকদারের মুঠফোনে বার বার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, মারামারির ঘটনা সম্পর্কে আমি জেনেছি। কিন্তু ব্যস্ততার কারনে যেতে পারি নাই। তবে ঘটনাটি দূঃখ জনক।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন জানান, উল্লেখিত ঘটনা শুনেছি, এখনো পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।