১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ  সকাল ৮:১৯  ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

স্ত্রী’র ফ্ল্যাটেও ক্রিকেটার আল আমিনকে পায়নি পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

যৌতুকের জন্য নির্যাতন, মারধর ও বাচ্চাসহ বের করে দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার আল-আমিন হোসেনের স্ত্রী ইসরাত জাহান। এরপর তাকে ধরতে তার কথিত স্ত্রীর ফ্ল্যাটেও অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সেখানে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে টানা তিনদিন ধরে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়েও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

৪ এপ্রিল রোববার রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল রানা এসব কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, রাজধানীর বনশ্রীতে আল-আমিনের কথিত স্ত্রীর বাসায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। কথিত নারীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে বলে তাদের আত্মীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। তবে কাবিননামা ছাড়া বিয়ের বিষয়টি আমরা এখনো নিশ্চিত নই।

মামলার বাদী ইসরাত জাহান এবং আল-আমিনের কথিত স্ত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই নারীকে আল-আমিন বিয়ে করেছেন। তারা একসঙ্গে থেকেছেন কিছুদিন।

অন্য মেয়ের সঙ্গে আল-আমিনের সম্পর্কের বিষয়ে ইসরাত জাহান বলেন, ওই মেয়ের সঙ্গে আল-আমিনের বিয়ে হয়েছে কি না, তা জানি না। কাবিননামাও পাইনি। তবে ওই মেয়ের সঙ্গে আল-আমিনের অনেক ছবি আছে।

তিনি বলেন, দুটো বাচ্চা নিয়ে আমি এখন কোথায় যাবো? আমার এখন একটাই চাওয়া, বাচ্চাদের নিয়ে যেন ভালোভাবে সংসার করতে পারি।

৪ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে আল-আমিন হোসেনের বিচার চেয়ে মানববন্ধনে দাঁড়ান স্ত্রী ইসরাত জাহান।

সেখানে ইসরাত জাহান বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানাই, তিনি একজন মা। আমার দুটি বাচ্চাকে নিয়ে কোথায় যাবো? তার কাছে সাহায্য চাই। তিনি যেন সুষ্ঠ বিচার করে দেন।

আল আমিন কোনো খরচ দিচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, আমার ফ্যামিলি আমাকে চালাচ্ছে। পুলিশের সাহায্যে আল-আমিনের বাসায় আছি। বিসিবির কাছে দেওয়া চিঠিতে আল আমিনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তার স্ত্রী।

ইসরাত জাহানের আত্মীয় মেহেদি বলেন, বিসিবি যেহেতু আল আমিনের অভিভাবক, তারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন আমরা তার সঙ্গে একমত হবো। পুলিশ আল আমিনকে খুঁজছে। তার মোবাইল বন্ধ, তাকে ট্র্যাকিং করা যাচ্ছে না।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে ক্রিকেটার আল-আমিন হোসেনের সঙ্গে ইসরাত জাহানের বিয়ে হয়। এ দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে এ পর্যন্ত সংসারকালে পারিবারিক বিষয় নিয়ে আল-আমিন তার স্ত্রী ইসরাতের কাছে ফ্ল্যাটের মূল্য পরিশোধ বাবদ ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।

‘ইসরাতের বৃদ্ধ বাবা যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আল-আমিন তাকে (ইসরাত) মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেন। বেশ কয়েকবার মারধর করার পর তিনি (ইসরাত) আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পারিবারিকভাবে আপস-মিমাংসা করেন। এতে আল-আমিন শান্ত না হয়ে দিনের পর দিন তার ওপর অত্যাচারসহ শারীরিক নির্যাতন অব্যাহত রাখে।’

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৫ আগস্ট আল-আমিন তার স্ত্রীর কাছে যৌতুকের দাবি করা টাকা নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। তার স্ত্রী টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। আল-আমিন জানান, তার (ইসরাত) সঙ্গে সংসার করবেন না, তাকে তালাক দেবেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন। পরে ইসরাতের চাচা তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরলে আল-আমিন তার সঙ্গে আগের মতো আচরণ করতে থাকেন।

এদিকে মামলার পর শুক্রবার রাতেই মিরপুর-২ নম্বর রোডের বাসা ছেড়েছেন ক্রিকেটার আল আমিন। পুলিশ তাকে গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করলেও খুঁজে পাচ্ছে না।